চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনে চারজনের যাবজ্জীবন

সাত বছর আগে এক ব্যবসায়ীকে খুনের মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুর আলম ভুঁইয়া এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মো. সাহাবউদ্দিন, মো. রাশেদ, এনামুল হক এনাম এবং মেহরাজ ওরফে মিরাজ।

২০১১ সালের ১ নভেম্বর রাঙামাটি থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন পটিয়া উপজেলার কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ (২৮)।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মো. নাছির উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের চারজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন।

“আসামিদের মধ্যে সাহাবউদ্দিন ও রাশেদ জামিনে নিয়ে পলাতক। অন্য দুই আসামি এনাম ও মিরাজকে রায় ঘোষণার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর ঈদ উপলক্ষে রাঙামাটি থেকে পটিয়ার বাড়িতে ফিরছিলেন মো. ইউসুফ। তিনি রাঙামাটিতে ব্যবসা করতেন।

নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বাস থেকে নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন ইউসুফ। ওই অটোরিকশার চালক ছিলেন আসামি মিরাজ।

কিছু দূর যাওয়ার পর যাত্রীবেশে ওই অটোরিকশায় ওঠেন সাহাবউদ্দিন, রাশেদ ও এনাম। অটোরিকশাটি কালুরঘাট সেতু পার হওয়ার পরই ইউসুফের দুই পাশে বসা যাত্রীরা তাকে জাপটে ধরে।

সাহাবউদ্দিন, রাশেদ ও এনাম তাকে কিল-ঘুষি মেরে এবং একটি শার্ট গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে তার কাছে থাকা মোবাইল, টাকা এবং অন্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতলা বাহার সংলগ্ন এলাকায় ইউসুফের লাশ রাস্তায় ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের ভাই মো. ফারুক একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৮ অগাস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলার আসামি মিরাজ ও এনাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।

মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় দেয়।

চট্টগ্রামে সালাম দিয়ে রিকশা থামিয়ে ছিনতাই

নগরীতে রিকশা নিয়ে ঘুরে লক্ষ্য ঠিক করার পর পরিচিতজনের মত সালাম, এরপর রিকশা দিয়ে গতিরোধ, সবশেষে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া- এভাবেই ছিনতাই করে যাচ্ছে একটি চক্র। 

দুই দিন আগে এই চক্রের একজনকে গ্রেপ্তারের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ইদ্রিস (৩৮), বদি আলম (৩০), আব্দুল হামিদ (২১), জামাল হোসেন (৪০) এবং বাইতুল মামুন ওরফে মামুন (২৬)।

এদের মধ্যে বদি আলম ও আব্দুল হামিদ রিকশাচালক। এদের কাছে থাকা তিনটি রিকশাও আটক করা হয়েছে।

চক্রের দুই সদস্য ইউনুছ ও মফিজ এখনো পলাতক।

এর আগে ৩১ মার্চ রাতে লালদিয়ার চর থেকে গ্রেপ্তার হয় এই চক্রের সদস্য মো. শফিক।  

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই চক্রটি গত সাত-আট বছরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

“রিকশায় চড়ে বা আগে থেকে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিকে বহনকারী রিকশা কাছাকাছি আসলে তারা পরিচিতজনের মত সালাম দেয়।

“কখনো বন্ধু আবার কখনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা পরিচয়ে সালাম দিয়ে রিকশা থামায় তারা। এরপর পূর্ব পরিচিতের মত কথা বলে। এই ফাঁকে দলের অন্য সদস্যরা ঘিরে ফেলে ওই রিকশা আরোহীকে। এসময় রিকশার গতি কমলেই তারা অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই করে।”

‘দোস্ত কেমন আছিস, রিকশা থামা’

গত ২৫ মার্চ রাতে নগরীর সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোডে মাহতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় মামলার পরই মাঠে নামে পুলিশ।

৩১ মার্চ শফিককে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় তারা নগরীর সাগরিকা এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।

“এরপর তারা আইস ফ্যাক্টরি রোডে যায়। সেখানে দুইবার রিকশা নিয়ে চক্কর দেয়। রাত ১০টার দিকে তৃতীয়বার চক্কর দেওয়ার সময় তারা মাহতাব উদ্দিনকে টার্গেট করে।”

তিনি বলেন, মাহতাবকে বহনকারী রিকশাটি অনুসরণের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারী চক্রের একটি রিকশা পাশাপাশি হয়। এসময় ওই রিকশা থেকে ইউনুছ সালাম দিয়ে মাহতাবকে বলে- ‘দোস্ত কেমন আছিস, রিকশা থামা’।

“এরপর সামনে এবং পেছনে রিকশা দিয়ে মাহতাবকে বহনকারী রিকশাটির ঘিরে ফেলে ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে ইউনুছ নেমে মাহতাবের সাথে হ্যান্ডশেক করে। এসময় তার ইশারা পেয়ে শফিক ছুরি হাতে মাহতাবের রিকশায় তার পাশে উঠে বসে।”

পুলিশ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ইউনুছ কোমরে রাখা একটি খাতা দেখিয়ে বলে- ‘কী আছে দে, নয়ত গুলি করে দেব’।

ছিনিয়ে নেওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৯ হাজার পাঁচশ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ইদ্রিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে ছিনতাই করা মোবাইল ফোনটি জামাল হোসেনের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্য মোবাইলটি পাওয়া যায় শফিকের কাছ থেকে।

ছাত্র পরিচয়েও ছিনতাইয়ে তারা

গ্রেপ্তার চক্রটি গত ৪ জানুয়ারি নগরীর ডিসি হিলের সামনে থেকে রিকশা আরোহী এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাত হাজার টাকা, সোনার আংটি ও মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

পাশাপাশি গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের সামনে থেকে এক রিকশা আরোহীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার কথাও জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ৪ জানুয়ারি ডিসি হিলের সামনে সিটি কলেজের শিক্ষক কিরীটি দত্ত ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছাত্র পরিচয় দিয়ে এই চক্রটি তার মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।

২০ ফেব্রুয়ারি ছিনতাইয়ের শিকার জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এম এ নাসের জানান, ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে নগর ভবনের সামনে তার রিকশার গতিরোধ করে ছিনতাই করা হয়।

চট্টগ্রামে বাংলালিংকের ফোর-জি চালু

ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোর-জি সেবা চালু করেছে।

চট্টগ্রাম শহরের দ্য পেনিনসুলা চিটাগং-এ মঙ্গলবার বাংলালিংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, “উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রদান করে ফোর-জি বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবহার সহজ করবে এবং মানুষকে ডিজিটাল জীবনযাত্রার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই সেবা চালু করার জন্য আমি বাংলালিংককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

বাংলালিংক-এর সিইও এরিক অস বলেন, “দেশের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নতমানের ডিজিটাল সেবার দাবিদার। আমরা বিশ্বাস করি, ফোর-জি চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কাযর্ক্রমের ডিজিটালকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় গুণগত পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেন আটকাতে চালককে ‘অপহরণ’



রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনের চালক বা লোকে মাস্টারকে তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নগরীর ষোলশহরের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে একটি শাটল ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এর আগেই ওই ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে বর্তমানে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।”

রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেন চলাচল করেনি বলে জানান শাহাবুদ্দিন।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে এক সংগঠনের নেতারা ট্রেনচালককে ধরে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অতীতেও নানা সময় দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শাটল ট্রেনের চালককে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। দিনশেষে তাদের ফিরে পাওয়া যায়। মূলত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতেই এটা করা হয়। এবারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, “শাটল ট্রেনের লোকো মাস্টারকে অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। আমরা বিষয়পি রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” তবে কে বা কারা অবরোধ করেছে, তা জানেন না বলে জানান তিনি।

আট দফা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আট দফা দাবিতে একটি সংগঠন থেকে বেনামি একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যে দফাগুলো দিয়েছে, তার কোনোটি পূরণ করার মতো নয়, শুধু মাত্র শাটল ট্রেনের বগিবৃদ্ধির দফাটি ছাড়া। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা অতি শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য বরাবর আট দফা দাবিতে একটি চিঠি দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

আট দফা দাবির মধ্যে আছে -প্রতিটি বিভাগের সেশন জট নিরশন ও শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রশাসনিক পদে থাকা জামায়াত-বিএনপিপন্থিদের অপসারণ, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগকৃত প্রতিক্রিয়াশীলদের নিয়োগ বাতিল, শিক্ষক বাসে বোমা হামলাকারী শিবির ক্যাডারদের চাকরিচ্যুত করা, খালেদা জিয়ার নামে করা হলের নাম পরিবর্তন, বঙ্গবন্ধুর নামে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের হাতে নিহত ছাত্রনেতাদের হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

নতুন যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনে কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতারা সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ছাত্রলীগের একাংশ নেপথ্যে থেকে তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

বাকলিয়া হবে দৃষ্টি নন্দন উপশহর : ছালাম



চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম বলেছেন,চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়–দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। সেই ভাবে তিনি বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন কাজের তদারকি করছেন। চট্টগ্রাম হবে সিঙ্গাপুরের ন্যায় একটি নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন শহর। এ শহরের উন্নয়ন সারাবাংলার মানুষের নজর কেড়ে নেবে। চট্টগ্রামবাসী আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে সেভাবে সহযোগিতা আগামী দিনে পেলে এ শহর উন্নয়নশীল দেশের শহরে পরিণত হবে। বাকলিয়া এক্সেস রোড ও মেরিন ড্রাইভের কাজ শেষ হলে বাকলিয়া হবে চট্টগ্রামের জন্য একটি উন্নত উপ–শহর। তিনি বাকলিয়াকে উপ–শহরে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে বাকলিয়াবাসীর বেশি বেশি সহগযোগিতা কামনা করেন। গতকাল শনিবার বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিদ্যালয়ের জন্য যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন। সকাল ১১টায় স্কুল অডিটোরিয়ামে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল আলম, সেচ্ছা সেবক লীগ নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক কেবিএম শাহজাহান, কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম, চেম্বার পরিচালক ছৈয়দ ছগীর আহাম্মদ, মুহাম্মদ সেয়দ ও ব্যবসায়ী নেতা শামসুল আলম, আবদুল আজীজ, হাজী মো. ইয়াকুব, নজরুল ইসলাম। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন বাবুল, নুরুল আফছার, আমিনুল ইসলাম, রদরুন্নেছা বেগম প্রমুখ।

০১-০৪-২০১৮


চট্টগ্রামে পিডিবির কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা গ্রাহক



চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল নিয়ে অভিযোগ করায় এক গ্রাহককে ৪ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে বলেছেন পিডিবির এক কর্মকর্তা। মিটার সংযোজনার জন্য নেয়া দেড় লাখ টাকার কৈফিয়ত চাওয়ায় আরেক গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন পিডিবির কর্মকর্তারা।

বুধবার দুদকের গণশুনানিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন নানা অনিয়ম তথ্য উঠে আসে। এ সময় পিডিবির কর্মকর্তারা সংশোধন না হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন দুদক কমিশনার।
ভুতুড়ে বিল, ঘটনাস্থলে না গিয়ে অনুমাননির্ভর বিল করা, মিটারের চেয়ে বিলে রিডিং বেশি ও নানা অজুহাতে প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে টাকা হাতানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পিডিবির বিরুদ্ধে।

গ্রাহকদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার চট্টগ্রাম পিডিবির প্রধান কার্যালয়ে গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। এতে অংশ নিয়ে ৩৪ জন গ্রাহক নানা তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গ্রাহক মনছুর আলম কেঁদে কেঁদে জানান, মিটার সংযোজনার জন্য এক বছর আগে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা দেন তার বাবা। সংযোগ কেন হচ্ছে না, তা জানতে চাইালে ক্ষুব্ধ হয়ে মনছুর এবং তার বাবার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা ঠুকে দেন পিডিবির কর্মকর্তারা। ‘কেন আমাদের মিটার দিচ্ছেন না, জিজ্ঞাসা করলে তারা মারধর। এরপর আমার বাবা যখন উত্তেজিত হয়ে পড়ে তখন সেটা ভিডিও করেছে এবং সরকারী কাজে বাধা দেয়ার জন্য আমাদের নামে মামলা দিয়েছে। আমার আব্বা এখনও জেল খাটছে। আমি এর বিচার চাই।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মনছুর।

নগরীর নিউমুরিং থানার আরেক গ্রাহক আবু বক্কর ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি পিডিবির কর্মকর্তাদের জানান বারবার। পরে অফিসে গিয়ে অভিযোগ করলে তাকে ভবন থেকে লাফ দিতে বলেন মিটার রিডার ওমর ফারুক।

গণশুনানিতে দুদক কমিশনার ড. নাছির উদ্দীন আহমেদ বলেন, ভুল করলে আপনারা সংশোধন হয়ে যান, নইলে কারাগারে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘সংশোধন না হলে আপনারা বিপদে পড়ে যাবেন। জেলখানায় যেতে হবে আপনাদের এবং চাকরি থেকে খুব তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে হবে।’
এদিকে অভিযুক্ত মিটার রিডার ওমর ফারুককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জন ভোগান্তি কমাতে প্রতি শনিবার ৩টা থেকে ৫ পর্যন্ত গণশুনানি হবে বলেও জানান পিডিবির বিতরণ (দক্ষিণাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। পরে গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে দুদক কমিশনার চট্টগ্রামের আওতাধীন ১২টি নির্বাহী প্রকৌশলী দফতরে ক্রমান্বয়ে গণশুনানি আয়োজন করার নির্দেশ দেন।



জনকন্ঠ - ৩১/৩/২০১৮

জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কিত চট্টগ্রাম নগরবাসী


 সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৬টি খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অন্যদিকে বরাদ্দ না থাকায় এবারও খাল খনন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে সিটি কর্পোরেশনকে। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা কতটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।


বর্ষায় নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানি মিলিয়ে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে যায়। আর এতে প্রতি বছর চরম দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএর মধ্যে রশি টানাটানি চলেই আসছে। এ অবস্থায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প গত আগস্টে অনুমোদন পায় সিডিএ। দীর্ঘ ৭ মাস পর অবশেষে সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম বলেন, আমরা শুধু খাল খনন ও পরিষ্কার এবং ড্রেন খনন ও পরিষ্কারের কাজে হাত দিব।

এদিকে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশন করে এলেও এবার পৃথক বরাদ্দ না থাকায় খনন কার্যক্রম থেকে সরে আসতে হয়েছে তাদের। মেগা প্রকল্প সিডিএ অনুমোদন পাওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল দায়িত্ব ও তাদের বলে জানায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, বাজেট দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সহযোগিতা করব।

বর্ষা শুরু হওয়ার বাকি কয়েক মাস। এখনও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না থাকায় পানি জমে থাকা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কোন পরিকল্পনা কার্যকর হয় না। খাল ও ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয় না। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সবগুলো সেবাধর্মী সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান।


তিনি বলেন, অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি পরিষ্কার নয়। সিটি করপোরেশন অর্থ বরাদ্দ না পেলে কাজ কীভাবে করবে? আলোচনা সাপেক্ষে দুটো সংস্থা একটা সমাধান নিয়ে আসতে পারে। উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালে ৪৮টি গার্ডার ব্রিজ ও কালভার্ট, তিনটি জলাধার ও খালের উভয় পাশে ১৫ ফুট চওড়া সড়ক নির্মাণ করা হবে।


নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম মেয়র বিএনপির সিরাজ



ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম সিরাজ উদ দৌলা। তিনি ৯ হাজার ৫শ’ ৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৫শ’ ৯৩ ভোট।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ১শ’ ৫৭টি। ২নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আমান উল্লাহ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ২শ’ ১১টি। ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. হারুন। তার প্রাপ্ত ভোট ৫শ’ ৪৩টি। ৪নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো.মহিন উদ্দিন। তার প্রাপ্ত ভোট ৭শ ২৬টি। ৫নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এসএম আবুল মনসুর। তার প্রাপ্ত ভোট ৬শ’ ৫০টি। ৬নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মো. এয়াকুব। তার প্রাপ্ত ভোট ৯শ’ ৯৭টি। ৭নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. ইছমাইল। তার প্রাপ্ত ভোট ৭শ’ ৭২টি। ৮নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৭০টি।

৯নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এম ছোলেমান। তার প্রাপ্ত ভোট ৮শ ৮টি। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ছলিমা আকতার। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৪৬টি। ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রেজিয়া বেগম। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৫শ ৫টি। ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা আকতার। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৯শ ৯২টি।

নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী এস এম সিরাজ উদ দৌলা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোধিকারহীনতাই এই ভোট বিপ্লবের কারণ। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে তাদের মনোবাসনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

আ.লীগ প্রার্থী মো. মুজিবুল হক চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমার প্রার্থীতা বাতিল হলে আমার দলের লোকজনই এর বেশি নেতিবাচক প্রচার করেছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেও অনেকেই তা মূল্যায়ন করেনি। আবার অপর একটি পক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে দলীয় কর্মীদের ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। তবুও যেসব ভোটার ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ, যুবককে জরিমানা : এদিকে গতকাল সকাল থেকেই কোনো রূপ বিশৃঙ্খলা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পৌরবাসী প্রথমবারের মত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে র‌্যাব–পুলিশ–বিজিবি’র কড়া সতর্কতা ছিল সবখানে। তবে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে মো. ইকবাল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সরেজমিনে গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় নাজিরহাট আহমদীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। প্রখর রোদের তাপ উপেক্ষা করে দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। এখানে চারটি ভোট কেন্দ্র। ৪ জন প্রিসাইডং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব ফরহাদাবাদ অংশের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার বশীর আহমেদ সরকার জানান, এই কেন্দ্রে ১৬৫১ ভোটের মধ্যে ৪০০ ভোট সংগ্রহ হয়েছে। এই কেন্দ্রের ৯০ বছর বয়স্ক ভোটার নজির আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আর পৌরসভার দ্বন্দ্বে ২০০৩ সালের পর আর ভোট দিতে পারিনি এখানে। তাই যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তাদের গায়ে ‘জং ধরেছে’!সরকার একটি নির্বাচন দিয়ে সুযোগ দিলো ভোট দেওয়ার। তাই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে এলাম। অপর অংশে দায়িত্ব পালন করছেন ফেরদৌস হাসান। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে ১৪২৭ ভোটের মধ্যে ৪শ’ ভোট সংগ্রহ চলছে।

সকাল ১০টা ১৬ মিনিটের সময় সুয়াবিল চুরখারহাট মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ডা. সুমেন চাকমা জানান, ১৭৬৮ ভোটের মধ্যে ৫০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রে কথা হয় আ.লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করছে। এখানে ভোট দিয়ে ছেলের কাধে ভর করে ফিরছিলেন আশি বছর বয়ষ্ক রবিজা খাতুন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে সুয়াবিলে উপ–নির্বাচনের পর আমরা আর ভোট দিতে পারিনি। তাই প্রথম পৌরসভায় ভোট দিতে এলাম।

বেলা ১১টায় পূর্ব ফরহাদাবাদ নূর আহমদ ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এখানে পুরুষ–মহিলা দুইটি কেন্দ্রে প্রতি বুথে ১০–১৫ জন করে ভোটার আছেন। পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শফিউল আলম জানান, এই কেন্দ্রে ১৯৯২ ভোটের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৩৫০ ভোট। মহিলা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ১৯১২ ভোটের মধ্যে ৬০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রের কাউন্সিলর প্রার্থী মঈনুল জানান, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। সব প্রার্থীরা লোকেরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় বাবু নগর উচ্চ বিদ্যালয় পুরুষ কেন্দ্রে দেখা যায়, অল্প কয়েকজন পুরুষ ভোটার ভোট দেওয়ার অপে ায় আছেন। প্রিসাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৭৫০ ভোটের মধ্যে সাড়ে ৭০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রের ভোটার সাবেক পিজিআর প্রধান লে. কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরী বলেন, অনেকদিন পর নিজের এলাকায় প্রথম ভোট দিলাম। তাও প্রথম পৌরসভায়। ভালোই লাগছে।

দুপুর ১টায় মধ্য দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। দ্রুত সেখানে গেলে প্রত্য দর্শীরা জানান, আ.লীগের মূল ধারার এক নেতা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে অপর পক্ষের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ও বিজিবি লাঠি পেটা করে তাদের নিবৃত্ত করে। এখানে নারী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিন ও পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের প্রায় ৫০% ভোট সংগ্রহ হয়েছে।

দুপুর ২টায় নাজিরহাট আহমদীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ মনসুর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মো. ইকবাল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকের হোসেন মাহমুদ বলেন, কোনো প্রকার গণ্ডগোল ছাড়া নির্বাচন শেষ হয়েছে।

সূত্র ঃ দৈনিক আজাদী 

‘ডিম পাহাড়ের’ সৌন্দর্য হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের

এনামুল হক কাশেমী, বান্দরবান : সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ৩৩ কি.মি. দীর্ঘ থানচি–আলীকদম সড়কের মাঝপথে থাকা ‘ডিমপাহাড়’ এলাকাটি হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের। এছাড়া দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের উপর নির্মিত এই সড়কপথটিও (থানচি–আলীকদম) পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় দীর্ঘদিন ধরে। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এই আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজনেতারা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই সড়কপথের পাশে বসবাসকারী ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ছবি তুলেছেন :  সজিবুল ইসলাম নয়ন

আলীকদম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম এবং থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেছে এ সড়কের মাঝপথে অবস্থিত ‘ডিমপাহাড়’ এলাকাটি।

তাছাড়াও পুরো ৩৩ কি.মি. সড়কপথ জুড়েই রয়েছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রয়েছে রকমারি ফুল–ফলে আচ্ছাদিত সবুজ গাছ–গাছালিও। পিচঢালা আঁকা–বাঁকা এই পথে ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করে পাহাড়ি দৃশ্যগুলো। পুরো সড়কপথের সাথে যোগ হয়েছে সবুজপাহাড় আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছোট–ছোট পাড়া/গ্রামগুলোর বৈচিত্র্যময় মানুষদের জীবনধারা ও পথচলা। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও বিপদমুক্ত নয় এমন এলাকাসমূহে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা চৌকি কিংবা নিরাপত্তা ক্যাম্প বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পর্যটকরা।

কুমিল্লা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক আবদুল সালাম, ফরিদ আহমদ এবং কলিমুল্লাহ জানান, তারা গত সপ্তাহে আলীকদম হয়ে থানচি উপজেলা সদরের সড়কপথ ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানে তারা ‘ডিমপাহাড়ে’ কিছু সময় কাটিয়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করেছেন। তারা বলছেন, কেবল ডিমপাহাড় এলাকাটিই নয়, ৩৩ কি.মি. দীর্ঘ থানচি–আলীকদম উপজেলা সড়কের প্রতি ১০ কি.মি. পর পর পথিক বা পর্যটকদের জন্যে একটি করে অস্থায়ী বিশ্রামাগারসহ নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ করা আবশ্যক। এসব নির্মিত হলে ভ্রমণ পিপাসুরা এ সড়ক ব্যবহারে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে পৃথকস্থানে স্থাপিত নিরাপত্তা চৌকিসমূহে যাতায়াতকারী পর্যটকসহ যাত্রীবহনকারী যানবাহনগুলোর চালক এবং যাত্রীদের জরুরি মোবাইল নম্বরসহ ডাটা লিপিবদ্ধ করা হয়। যাতে করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো কিংবা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া গাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে।

যেভাবে যাবেন ডিম পাহাড়ে :

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া বাসস্টেশন থেকে আলীকদমমুখী বাস কিংবা ছোট যানবাহনে আলীকদম উপজেলা সদরে এবং সেখান থেকে হালকা যানবাহনে সহজেই যাওয়া যায় ‘ডিমপাহাড় এলাকা’ তথা পুরো আলীকদম–থানচি সড়কে। আবার বান্দরবান জেলা সদর হয়ে থানচি উপজেলা সদর থেকে যে কোনো হালকা যানবাহন চেপেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করা যায় ওই সড়কপথে। তবে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা হিসেবে পাহাড়ে যানবাহন চালনা বিষয়ে দক্ষ এমন চালককেই সাথে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে আলীকদম–থানচি সড়কপথে যাওয়ার সময় লামা উপজেলার টপহিল মিরিন্‌জা পর্যটন কেন্দ্র এবং আলীকদম উপজেলা সদরের কাছে পর্যটন কেন্দ্র আলী চূড়ংগ দর্শনের সুযোগ রয়েছে। বান্দরবান জেলা সদর হয়ে থানচি–আলীকদম সড়কপথ ভ্রমণে গেলে দর্শনীয় স্থান প্রান্তিকলেক, নীলাচল, রাজবাড়ি, শৈলপ্রভাত, চিম্বুক পাহাড়, জিয়া পুকুর, সুভ্রনীলা, নিলগিরি এবং জীবননগর অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যটকদের ভ্রমণ মৌসুম না হওয়া সত্তেও প্রতিদিনই বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ সরকারি বন্ধের দিনে বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটছে বান্দরবানে। পর্যটনের ভরা মৌসুমে তো তিল ধারণের জায়গাও থাকে না এখানে।

বদলে যাবে মীরসরাই - ৫শ কারখানা নিয়ে হবে অত্যাধুনিক পোশাকপল্লী





মাহবুব পলাশ, মীরসরাই : শুধু বাংলাদেশ নয় এশিয়ার বৃহত্তম পোশাকপল্লী হচ্ছে মীরসরাই উপজেলার অর্থনৈতিক জোন এলাকায় ৫শ কারখানা নিয়ে অত্যাধুনিক পোশাক পল্লী। এই বিষয়ে বেজা কনসালটেন্ট আব্দুল কাদের খান দৈনিক আজাদীকে জানান, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে উক্ত পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত সব ধরনের অবকাঠামো সুবিধাসহ একটি মডেল পোশাকপল্লী গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বদলে যাবে গোটা মীরসরাইয়ের দৃশ্যপট।
কর্মসংস্থান হবে আরো লক্ষাধিক বেকারের। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ,সাভার এবং রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করা হচ্ছে ৬০ পোশাক কারখানা।
তিনি আরো জানান, দুই ক্রেতা জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাকর্ড এবং উত্তর আমেরিকার অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে এসব কারখানা স্থানান্তরের শর্ত বহু আগের। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু বন্ধ। আর কিছু কারখানা আংশিক চালু রয়েছে। এসব কারখানা নিয়ে আসা হবে মীরসরাইয়ে। ওইসব কারখানা সহ কম–বেশি ৫০০ কারখানা গড়ে তোলা হবে এ পল্লীতে। পুরোদমে প্রাণ ফিরে পাবে নতুন এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সামান্য দূরত্বে অবস্থানের সুবিধায় এ পল্লীর কারখানাগুলো রফতানিতে লিড টাইম (রফতানি আদেশ পাওয়ার পর ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত সময়) সুবিধা পাবে।
উদ্যোক্তাদের ধারণা, পোশাকপল্লীতে উৎপাদন শুরু হলে রফতানি খাতে আরও অন্তত ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বিজিএমইএর মধ্যে আলোচনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভূমি উন্নয়ন, গ্যাস–বিদ্যুৎ সেবার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পোশাক পল্লী থেকে উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে।
বেজা ও বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই পোশাক পল্লী ইজারাভিত্তিতে ৫০ বছরের জন্য উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আপাতত ৫০০ একর নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে দুই হাজার একর পর্যন্ত সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্লট হবে কমপক্ষে এক একর। একর প্রতি মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। সহনীয় কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করা যাবে। মোট মূল্যের ২৫ শতাংশ বুকিংমানি হিসেবে বিজিএমইএর তহবিলে জমা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ভূমির মূল্য বাবদ ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বেজাকে। রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে বেজা ও বিজিএমইএর মধ্যে গত ২২ মার্চ উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
সংশ্নিষ্টরা জানান, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কমপ্লায়েন্স শর্তের বাইরেও বেজার নিজস্ব কমপ্লায়েন্স শর্ত প্রতিপালন করতে হবে পোশাক পলহ্মীর কারখানাগুলোকে। বেজার পরামর্শক আবদুল কাদের জানিয়েছেন, পোশাক পল্লীর কারখানাগুলো হবে বিশ্বমানের। দুই ক্রেতা জোটের শর্তের চেয়ে আরও নিরাপত্তামূলক শর্ত প্রতিপালন করতে হবে পোশাক পল্লীর কারখানাগুলোকে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দেশের পোশাক শিল্প এখনও সম্ভাবনাময়। অন্তত আরও ২০ বছর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট বজায় থাকবে। এতে ব্যাপক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হবে। এসব বিবেচনায় পোশাক খাতকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চায় বেজা। তিনি বলেন, বন্দর থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে মীরসরাইয়ে পোশাক পল্লীর অবস্থান।


বরাদ্দ না থাকায় এবারও চট্টগ্রামে হচ্ছে না খাল খনন


বর্ষায় চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৬টি খাল খননের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অন্যদিকে বরাদ্দ না থাকায় এবারও খাল খনন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে সিটি কর্পোরেশনকে।
চট্টগ্রামে বৃষ্টির পানির সাথে জোয়ারের পানি মিলিয়ে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে যায়। আর এতে প্রতি বছর চরম দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। এরমধ্যে জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএর মধ্যে রশি টানাটানি চলেই আসছে। এ অবস্থায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প গত আগস্টে অনুমোদন পায় সিডিএ। দীর্ঘ ৭ মাস পর অবশেষে সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম বলেন, আমরা শুধুমাত্র খাল খনন ও পরিষ্কার এবং ড্রেন খনন ও পরিষ্কারের কাজে হাত দিব।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন বলেন, খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশন করে এলেও এবার পৃথক বরাদ্দ না থাকায় খনন কার্যক্রম থেকে সরে আসতে হয়েছে আমাদের। মেগা প্রকল্প সিডিএ অনুমোদন পাওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল দায়িত্ব। বাজেট দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সহযোগিতা করবো।
বর্ষা শুরু হওয়ার বাকি আছে কয়েক মাস। তবে এখনও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না থাকায় পানি জমে থাকা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হয় না। খাল ও ড্রেনগুলো পরিষ্কারও করা হয় না।
তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সবগুলো সেবাধর্মী সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান।
তিনি বলেন, অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি পরিষ্কার নয়। সিটি করপোরেশন অর্থ বরাদ্দ না পেলে কাজ কীভাবে করবে? আলোচনা সাপেক্ষে দুটো সংস্থা একটা সমাধান নিয়ে আসতে পারে।
জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আত্ততায় ৩৬টি খালে ৪৮টি গার্ডার ব্রিজ ও কালভার্ট, ৩টি জলাধার ও খালের উভর পাশে ১৫ ফুট চওড়া সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে এবারও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কিত চসিক বাসিন্দারা।

সূত্র : সময় টিভি

চট্টগ্রাম বন্দরের কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না (ভিডিও)


রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ও ঢাকামুখী প্রবণতা কমানোসহ বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সকালে চট্টগ্রাম ক্লাবে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।
দেশের আমদারি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কিন্তু প্রতিযোগী বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের কাঙ্খিত সক্ষমতা না বাড়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। সংকট থেকে উত্তরনের উপায় নিয়ে এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশ।
এতে অংশ নিয়ে বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাসহ গুণগত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্টেক হোল্ডাররা।
তবে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ২৪ ঘন্টা বন্দর চালু রাখাসহ গতিশীলতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়ীদের সাথে কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বলেন, রাজনৈতিক অমনোযোগিতা ও নীতি নির্ধারকদের অসচেতনতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি।
নীতি নির্ধারক ও ব্যবহারকারীদের সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে যুক্ত করা গেলে বন্দরের সংকট কেটে যাবে বলেও মত দেন কেউ কেউ।
জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ারও তাগিদ দেন তারা।
সূত্র ঃ একুশে টেলিভিশন

সিটি করপোরেশনের সেবা সম্পর্কে নগরবাসী জানে না


সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন নগরবাসী জানেন না সিটি করপোরেশন কি কি সেবা দেয়। সব সেবাই সিটি করপোরেশন থেকে পেতে চান। রাস্তায় যানজট হলে তার সমাধান, ওয়াসার পানির সমস্যা হলে তার সমাধান, বিদ্যুৎ না থাকলে তার সমাধানও সিটি করপোরেশন থেকে পেতে চায় নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে বিএফইউজে ও সিইউজে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মেয়র।
সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক।
সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের মাথা হলে, চট্টগ্রাম হচ্ছে হার্ট। তাই হার্ট অকার্যকর হলে মাথা অচল হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম সচল থাকলে বাংলাদেশ সচল থাকবে। চট্টগ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
কর পুনর্মূল্যায়নে মিডিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি মন্তব্য করে মেয়র বলেন, যারা উল্টাপাল্টা তথ্য দিয়েছে, তাদের বক্তব্যই হাইলাইট করে ছাপা হয়েছে। আমার বক্তব্য গুরুত্ব পায়নি। কর পুনর্মূল্যায়নে নগরীর বাড়ি মালিকরা সঠিক তথ্য দেয়নি। মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠান না থাকলে আমরা থাকবো না।
বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষরা আপনাকে নির্বাচিত করে চট্টগ্রামের দায়িত্ব আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন। আপনার(মেয়র) ভাল কাজের সঙ্গে আছি আমরা। ভাল কাজের সঙ্গে থাকবে মিডিয়াও। চট্টগ্রাম পানিতে ডুবলে আপনার সমালোচনা করবো আমরা।
সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল বলেন, বাংলাদেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে মন্ত্রী মর্যাদা দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রাম মেয়রকে মন্ত্রী মর্যাদা দেওয়ার অনুরোধ করছি।

সূত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম সরকারি স্কুলের ছাদ ধসে তিন ছাত্র আহত


চট্টগ্রামের শতবর্ষ পুরোনো সরকারি মুসলিম হাইস্কুলের একটি ভবনের ছাদের পলেস্তারা পড়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে অষ্টম শ্রেণির খ শাখায় ক্লাস চলার সময় ছাদের পলেস্তরা ভেঙে পড়ে। এ সময় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে মোক্তাকিমুল আলমকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ক্লাসের ছাদ থেকে ইটের টুকরো পড়ে তার হাত ও পা কেটে গেছে। একই শ্রেণির অন্য দুই ছাত্র মনিবুর রহমান ও মাসুকুর রহমান আহত হয় ইটের আঘাতে। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


সরকারি মুসলিম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরি জানান, দুর্ঘটনা কবলিত একাডেমিক ভবনে ১০টি ক্লাস রুম রয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় তলার চারটি কক্ষ এ ঘটনার পর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৯ সালে একাডেমিক ভবনটি নির্মাণের পর ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নগরীর প্রাণকেন্দ্রের এ সরকারি বিদ্যালয়ে দুই শিফটে এক হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে।
সূত্র : এন টিভি 

বিকল সিসি ক্যামেরায় চলছে চমেক হাসপাতাল



কথা কাটাকাটির জেরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর দুই সপ্তাহ পর মেডিক্যাল কলেজের গেইট থেকে চুরি হয় একটি মোটরসাইকেল। এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ওষুধ-জিনিসপত্র চুরির ঘটনাতো আছেই। তবুও টনক নড়ছে না চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

দীর্ঘদিন অচল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিসি ক্যামেরাগুলো। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। যার কারণে উদ্বেগ বেড়েছে হাসপাতালে আসা রোগী-দর্শনার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্ত করাটা অনেক সহজ। কিন্তু ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন বিকল। তাই কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, জরুরি বিভাগে দলবেঁধে এসে পুলিশের উপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। অথচ কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এতে আসামি ধরতে অতিরিক্ত বেগ পেতে হচ্ছে।’
‘আমাদের ফাঁড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় পুলিশ সদস্য কম। অন্যদিকে হাসপাতাল এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরির ঘটনা। এতে করে কোনদিকে নজর দিব অনেকসময় টের পায়না। সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে অপরাধী ধরতে সুযোগ হয়।’

এরআগে কয়েকবছর আগে সীমিত সংখ্যক ক্যামেরা লাগানো হয় হাসপাতালে। রোগীদের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০১৩ সালে প্রায় সবকটি ওয়ার্ডে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। এরজন্য অ্যাক্ট ওয়ে নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুই বছর পর দায়িত্ব শেষে প্রতিষ্ঠানটি চলে যায়। এরমধ্যে কেটে যায় তিন বছর। কিন্তু নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যার কারণে দীর্ঘদিন পড়ে আছে ক্যামেরাগুলো। বর্তমানে অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়ে আছে। আর যেগুলো সচল আছে, সেগুলো চলছে জোড়াতালিতে।

এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনালের মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তাঁরা আমাদের কাছে ফুটেজ চেয়েছে। কিন্তু আমরা দিতে পারিনি।’

‘এত বড় হাসপাতালে নিরাপত্তাররক্ষী খুব অল্প। অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা অবশ্যই দরকার। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তা পারছিনা।’

পরিচালক বলেন, ‘এরমধ্যে সিসি ক্যামেরার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এটির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। কয়েক মাসের মধ্যে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন সিসি ক্যামেরা বসাতে পারবো।’


সূত্র : 

তামিমের অন্যরকম ভালোবাসা


ক্রিকেটের অনেক বড় ভক্ত সে। মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে না পারলেও সুযোগ পেলেই টেলিভিশনে নিয়মিত দেখেন বাংলাদেশের খেলা। তবে এর জন্য প্রায়ই তার মার খেতে হয় বোনের কাছে। বলা হচ্ছিল ক্রিকেটের ক্ষুদেভক্ত তামিমের কথা। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সময় শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের ২ নং গেটের সামনে মার খেয়ে কান্না করছিলেন তামিম। এমন সময় পুলিশের চোখে পরে ছেলেটা।
অবশেষে জনসাধারনের অনুরোধে ছেলেটিকে নিয়ে যান তার স্বপ্নের ক্রিকেটার তামিম ইকবালের কাছে। সব শুনে ক্ষুদে ভক্ত তামিমকে জড়িয়ে ধরেন দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। তাকে উপহার হিসেবে দেন নিজের জার্সি। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ছোট্ট তামিমের বাসায় ফোন করে তাকে আর না মারার জন্য অনুরোধও করেন টাইগার এই তারকা।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পদে পদে হয়রানির অভিযোগ


ট্যাক্সের বদলে ঘুষ দিতে উৎসাহ দেয়া হয় যাত্রীদের : টিআইবি



চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে পদে পদে যাত্রী হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছে সনাক–টিআইবি। ‘যাত্রীদের ট্যাক্স না দিয়ে ঘুষ দিতে’ সংশ্লিষ্টরা উৎসাহ প্রদান করছেন বলেও সংস্থার এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যাত্রী ও ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুযায়ী এখানে সেবার মান বাড়েনি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন অভিযোগ করে সনাক–টিআইবি। এ বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে উড্ডয়ন পর্যন্ত যাত্রীর বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নিয়ে সংস্থাটির একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদনও এ সময় প্রকাশ করা হয়। গত ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত করা গবেষণা কার্যক্রমটি যাত্রী সাধারণ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, শুল্ক কর্মকর্তা, এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা, ট্রাভেল এজেন্সি,ব্যবসায়ীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বছরে এক মিলিয়ন যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করছে। অধিকাংশ যাত্রীই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে। তথ্য কেন্দ্রের অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, ফলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব লক্ষণীয়। তদারকি ব্যবস্থার ঘাটতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থার অভাবে যাত্রী হয়রানি এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। সাধারণ যাত্রীরাও তাদের ব্যাপারে বলতে চান না বিভিন্ন হয়রানির ভয়ে। এখানে যাত্রীদের ট্যাক্স না দিয়ে ঘুষ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের সাথে জড়িত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন শাখা। এর পরেই আছে সিভিল এভিয়েশন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্যরা।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়নকারী টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাফর সাদেক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।বিমানবন্দরটিতে চার ক্যাটাগরির ফ্লাইটে যাত্রী সেবার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, টার্মিনালে প্রবেশের ক্ষেত্রে যাত্রীর সাথে কতজন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবে তার সংখ্যা উল্লেখ নেই। দর্শনার্থী প্রবেশ ফি’র নিয়ম না থাকায় আনসার ও এপিবিএন সদস্যদের একাংশ যাত্রীর সাথে দর্শনার্থী থাকলে তাদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৫০–৫০০টাকা আদায় করছে। নিরাপত্তা চেক ও মালামাল স্ক্যানের ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতায় অনেক সময় হ্যান্ডব্যাগে পরিবহনযোগ্য নয়, এমন পণ্য থেকে যায়। যেসব বস্তু কেবিন প্যাকেজে পরিবহন করা যায় না, তা পরিবহনের জন্য যাত্রীরা চেকড ব্যাগেজ ব্যবহার করে। সিভিল এভিয়েশন নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের একাংশ ২০০–৫০০ টাকার বিনিময়ে ধাতব বস্তু ও পচনশীল বস্তু ক্যাবিন ব্যাগে বহনের সুযোগ করে দেয়। এসব পণ্য সাধরণত ক্যাবিন ব্যাগে নিষিদ্ধ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার শংকায়। প্রবেশের সময় যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত বাংলাদেশি টাকা থাকলে নিরাপত্তা কর্মীরা তা জোর করে আদায়ের চেষ্টা করেন।

চেক ইন এবং বোর্ডিং পাস সংগ্রহের ক্ষেত্রে, একই সময়ে একাধিক এয়ারলাইন্সের বিমান উড্ডয়ন নির্ধারিত থাকলে এয়ারলাইন্সগুলোকে আন্তর্জাতিক রুটের ১০টি কাউন্টার যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। এতে চাহিদার তুলনায় কাউন্টারের স্বল্পতা দেখা যায়। কাউন্টার স্বল্পতার জন্য সেবা প্রদান বিঘ্নিত হয়। কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি হয় এবং সেবা পেতে দেরি হয়। কাউন্টারে যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে সেবা পাওয়ার জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। বিমানবন্দর ত্যাগের পূর্বে প্রত্যেক যাত্রীকে বহির্গমন কার্ড বা ইডি কার্ড ইমিগ্রেশন ডেস্কে জমা দিতে হয়। চট্টগ্রামে বিমানবন্দর ব্যবহারকারীর অধিকাংশই প্রবাসী শ্রমিক। এদের অনেকেই ইডি কার্ড পূরণ করতে না, সেখানে কার্ড পূরণে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে ৫০–১০০টাকার বিনিময়ে সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের একটি অংশ এ কার্ড পূরণ করে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যে সকল যাত্রী ভিজিট ভিসা নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে শ্রমিক হিসেবে যাচ্ছেন, তাদেরকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইমিগ্রেশন কর্মীদের একাংশ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করছেন। এক্ষেত্রে ৩০–৩৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিজিট ভিসার কোন কোন যাত্রীর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে হয়রানি করা হয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে অতিরিক্ত অর্থও প্রদান করতে হয়। একজন যাত্রীর ব্যবসা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও ইমিগ্রেশন কর্মীরা তাকে আড়াই ঘন্টা আটকে রাখার একটি উদাহরণ তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনটিতে। ভিসার মেয়াদ কম, ছবি ঠিক নেই এসব অজুহাতেও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত ১০০–৫০০টাকা আদায় করে থাকে। অনেক সময় ইচ্ছে করেই যাত্রীর জিনিস লুকিয়ে রেখে ৫০–১০০০টাকা বকশিস আদায় করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

চূড়ান্ত নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে, ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র নেয়ার পর যাত্রীদের লাগেজ পুনরায় স্ক্যনিং করা হয়। যাত্রীরা অনেক সময় অনুমোদিত মুদ্রা থেকে বেশি পরিমাণে দেশি–বিদেশি মুদ্রা বহন করে। এই অতিরিক্ত মুদ্রা নিরাপত্তা কর্মীদের একাংশ জোরপূর্বক আদায় করে থাকে। মূলত, এই অতিরিক্ত মুদ্রা আটকের এখতিয়ার কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রয়েছে।

বিদেশগামী যাত্রী বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহন থেকে পার্কিং এর দায়িত্বে নিয়োজিতরা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে পরবর্তীতে তা যাত্রী সাধারণের গায়ের ওপর পড়ছে। এছাড়া শুল্ক বিভাগের কর্মীদের একাংশের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০০০–১৪০০০টাকা অর্থের বিনিময়ে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য অথবা শর্ত সাপেক্ষে আমদানি যোগ্য পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করানোর অভিযোগ রয়েছে। বকশিসের বিনিময়ে লস্ট এন্ড ফাউন্ড থেকে পাসপোর্ট ছাড়াই পণ্য ছাড় করা যায়। এদিকে বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইটগুলোর ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতে সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রীকে ম্যানুয়ালি চেক করা হয়। এক্ষেত্রে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীর ব্যাগ খুলে ফেলা ও অনেক যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাসহ ইত্যাদি।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা ৪.৯৪ ও ৩.১৫ গুন বাড়লেও বিমানবন্দরটিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি।

২০০০ সালে “চিটাগাং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট”র আওতায় যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় তা ৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম, কিন্তু বর্তমানে একই অবকাঠামোয় ১২.৫ লাখের বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

বিমানবন্দরে কাজের পরিধি, যাত্রী সংখ্যা এবং ফ্লাইট সংখ্যা পূর্বের তুলনায়বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী লোকবল বাড়েনি। সেখানে ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী লোকবল আছে।

গ্রাউন্ড সাপোর্টে যন্ত্রপাতি অপর্যাপ্ত, যন্ত্রপাতির ৩৭ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি আংশিক ব্যবহারের উপযোগী নয়। অনেক সময় একটি বিমানের সরঞ্জাম দিয়ে আরও দুটি বিমানের সেবা দিতে হয়। ফলে যাত্রী সেবা কার্যক্রমে মন্থর গতি দেখা যায়। এ সময় যাত্রী সেবার মান সুনিশ্চিতে তাদের পক্ষ থেকে ১৩টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করার কথা জানানো হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণ, প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ, নতুন বোর্ডিং ব্রিজ ক্রয় এবং সংযোজনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যাপ্ত চেক ইন ও ইমিগ্রেশন বুথ কাউন্টার বাড়ানো, অধিক পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য লস্ট এন্ড ফাউন্ডের ওয়ার হাউজের আয়তন বাড়ানো, পণ্য ব্যবস্থাপনায় তদারকি বৃদ্ধি, ম্যানুয়ালি কাজ করার হার কমানো, বহির্গমন কার্ড পূরণে পৃথক ডেস্ক স্থাপন করা, নিরাপত্তা তল্লাশী, ইমিগ্রেশন, শুল্কসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যাত্রী হয়রানি বন্ধে তদারকি বৃদ্ধি ও জড়িতদের শাস্তি দেয়া, অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন ও অভিযোগ লিপিবদ্ধকরণ ও নিষ্পত্তিকরণ রেকর্ড সংর ণের পাশাপাশি প্রকাশ করাসহ ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাক সহ সভাপতি অধ্য আনোয়ারা আলম, সহ সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিআইবি’র সাধারণ পরিষদ সদস্য ও সনাক চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরের এরিয়া ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম।

আজাদী প্রতিবেদন - শুক্রবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ - ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

কর্নেলহাটে ফার্নিচার দোকানে ভয়াবহ আগুন





আগ্রাবাদ, বন্দর, নন্দনকানন ও কুমিরা স্টেশনের ১৩টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: নগরীর সিটি গেট-কর্নেল হাট এলাকায় ৩৬ মালিকের ২৩টি ফার্নিচারের দোকান ও কারখানা এবং ১০০ কক্ষের ১০টি সেমিপাকা-কাঁচা বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া আটটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি ফিলিং স্টেশনের পাশে আগুন লাগার খবর পেয়ে আগ্রাবাদ, বন্দর, নন্দনকানন ও কুমিরা স্টেশনের ১৩টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

বেলা সোয়া ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে ঘটনাস্থল থেকে জানান, কাট্টলীর কর্নেল হাট-সিটি গেট এলাকার মীর ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন প্রায় ১৫-২০টি ফার্নিচারের দোকান ও কারখানা আগুনে পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস এখন ডাম্পিং বা ছাই চাপা আগুন নেভানোর কাজ করছে।



তিনি জানান, একেকটি দোকানে একাধিক ব্যক্তির মালিকানা রয়েছে। আগুনের সূত্রপাত হয়েছে একটি ফার্নিচার কারখানা থেকে। জাহাজভাঙা শিল্পের পুরোনো জাহাজের আসবাব ও কাঠের ওপর নির্ভর করে এসব ফার্নিচারের দোকান ও কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে।

তদন্ত শেষে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

সূত্র : বাংলানিউজ 

নগরের ফ্লাইওভারগুলো ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখা হোক



চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনি পর্যাপ্ত নয়। বহদ্দারহাট ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে ডিভাইডার থাকলেও কদমতলী ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারে নেই। অধিকাংশ সময়ই এসব ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ফ্লাইওভারগুলোয় যান চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় ওভারটেকিংয়ের প্রবণতাও বেশি। এসব অব্যবস্থার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলো। মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারিও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে দুই যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন একজন। পত্রিকান্তরে গত ২৭ জানুয়ারি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

খবরের বিবরণে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি খুলে দেওয়া হয় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। চালুর পর থেকে ফ্লাইওভারের ওপর একাধিক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া ফ্লাইওভারের লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় ফ্লাইওভারটির একটি লেন বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। মাত্র একটি লেন দিয়ে উভয়মুখে যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়েছে। এ বছরের ২৫ জানুয়ারি ফ্লাইওভারটিতে একজন নিহত হওয়ার আগে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর দুর্ঘটনায় একজন মোটর সাইকেল আরোহী প্রাণ হারান। একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর বাসের ধাক্কায় নিহত হন আরো এক মোটর সাইকেল আরোহী। ওই মাসেই মোটর সাইকেলের আরো দুই আরোহী দুর্ঘটনায় নিহত হন। এছাড়া ২০১৬ সালে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে নিচে নামার সময় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন দুই অটোরিকশা যাত্রী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের প্রবেশ ও বহির্গমনের মুখে যানজট লেগে থাকায় দুর্ঘটনায় পড়ছে বিভিন্ন যানবাহনে। আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পর এখন পর্যন্ত পথিমধ্যে কোন ট্রাফিক সাইন না বসানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ফ্লাইওভারে দক্ষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত লাইটিং ও ট্রাফিক সাইনের ব্যবহার না বাড়ানো গেলে ফ্লাইওভার আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ঝুঁকিমুক্তভাবে যাতে যান চলাচল করতে পারে, সেজন্য বন্ধ করা লেনটি খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া হবে বলে জানান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)নির্বাহী প্রকৌশলী ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের পরিচালক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের স্বার্থে নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ না করেই আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য একটি লেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। লুপ ও র‌্যাম্পের কাজ শেষ হয়ে আসায় কয়েকদিনের মধ্যেই বন্ধ লেনটি খুলে দেয়া হবে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে প্রথম বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হয়। মাঝে ২০১২ সালে নির্মাণ ত্রুটিতে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহত হন। বড় এ দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেও ফ্লাইওভারটির একটি গার্ডার ধসে পড়ে। যদিও ওই ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। লুপ চালু হওয়ার প্রায় তিন বছর পর সিডিএ ফ্লাইওভারটিতে ৩০০ মিটারের র‌্যাম্প নির্মাণ করে। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর র‌্যাম্পটির উদ্বোধন করা হয়। তবে মূল ডিজাইনের বাইরে র‌্যাম্প নির্মাণ করায় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের সঙ্গে র‌্যাম্পটি কৌণিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে সড়কের যেকোনো সংযুক্তি অর্ধবৃত্তাকার হওয়ার কথা থাকলেও কৌণিক অবস্থানের কারণে ফ্লাইওভারটিতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

২০১২ সালে কাজ শুরু হয়ে ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারবিহীন কদমতলী ফ্লাইওভারটির উদ্বোধন হয় ২০১৫ সালে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লাইওভারে ডিভাইডার দেয়া জরুরি। এছাড়া স্পিড ব্রেকার না থাকলেও ফিউশন ব্রেকার(সীমিত গতিরোধক) দেয়া উচিত। তা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন,চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের আগে যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়নি। এরপর দুটি ফ্লাইওভারের মূল কাজ শেষ হওয়ার পর লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর সঙ্গে লুপ ও র‌্যাম্পগুলোর সমন্বয় থাকছে না। একটি আধুনিক ও নিরাপদ ফ্লাইওভারের জন্য দক্ষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের যথাযথ আইনের আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারগুলোয় পরিকল্পিত কোন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই। এ প্রসঙ্গে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ফ্লাইওভারে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগের এরই মধ্যে ফ্লাইওভারে যানবাহন চলাচলের একাধিক সতর্কতামূলক সাইন সংবলিত ব্যানার–পোস্টার লাগানো হয়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনার বিষয়টি শিগগিরই ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে অসহনীয় যানজট থেকে মুক্তি পাওয়াসহ নগরবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে সচল ও বেগবান রাখার স্বার্থেই মহানগরীতে একাধিক উড়ালপুল বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও যদি মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলো থেকে মানুষ কোন প্রকার সুবিধা না পান, বরং প্রাণটা হাতে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যানবাহন ও মানুষকে চলাচল করতে হয় তাহলে মানুষ যাবেন কোথায়? অর্থেরও অপচয় নয় কি? দেখা যাচ্ছে, নগরীর ফ্লাইওভারগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনি পর্যাপ্ত নয়। মাত্র দু’টি ফ্লাইওভারে ডিভাইডার থাকলেও অন্য দুটি ডিভাইডারবিহীন। অধিকাংশ সময়ই এসব ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। ফ্লাইওভারগুলোতে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা বেশি। এসব অব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফ্লাইওভারগুলো। যত শীঘ্র সম্ভব এইসব অব্যবস্থা দূর করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। একের পর এক দুর্ঘটনায় মানুষ মরবেন, যানবাহন নষ্ট হবেণ্ড এটা সহনীয় হতে পারে না। পর্যাপ্ত লাইটিং ও ট্রাফিক সাইনের ব্যবহার না বাড়ানো, মূল ডিজাইনের বাইরে র‌্যাম্প নির্মাণ, ডিভাইডারবিহীন সীমিত গতিরোধক বা ফিউশন ব্রেকার না দেয়া ইত্যাদিতে প্রাণহানি হওয়া ভয়াবহ ব্যাপার। খবরে আরো একটি শিহরণ জাগানো বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো,মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলো নাকি নির্মাণের আগে যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়নি। কেন যাচাই করা হলো না তার জবাব অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি ফ্লাইওভারের মূল কাজ শেষ হওয়ার পর লুপ ও র‌্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে বিধায় ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর সঙ্গে লুপ ও র‌্যাম্পগুলোর সমন্বয় থাকছে না। এমন ত্রুটিপূর্ণভাবে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাম্য নয়। তাছাড়া একটি নিরাপদ ফ্লাইওভারের জন্য দক্ষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ট্রফিক আইন অমান্যকারীদের যথাযথ আইনের আওতায় আনা জরুরি হলেও মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলোয় কোন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই। আমরা মনে করি, এই জরুরি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু নজর দেওয়া অত্যাবশ্যক। মোটকথা, এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলো রাখা কোন ক্রমেই উচিত নয়। এখনকার ফ্লাইওভারগুলো অবিলম্বে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ হোক্‌ণ্ড এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সম্পাদকীয় - দৈনিক আজাদী -  ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

সাতকানিয়ায় শিমের বাম্পার ফলন বিষমুক্ত হওয়ায় চাহিদা বেশি দেশ-বিদেশে



সাতকানিয়ায় চলতি রবি মৌসুমে শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ায় ভাগ্য ফিরছে চাষীদের।
কেরানীহাট-পার্বত্য জেলা বান্দরবান সড়কের বায়তুল ইজ্জত সত্যপীর পাহাড়ের দক্ষিণে পশ্চিম বাজালিয়ায় বিশাল এলাকাজুড়ে শিম চাষ করা হয়েছে এবার। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে শিমক্ষেত ফুলে-ফলে ছেয়ে গেছে। সেইসাথে শিমের মাচার ওপর প্লাস্টিকের বৈয়ামে ফেরোমোন ফাঁদ চোখে পড়ে। এ সময় কৃষকরা শিম তোলা আর শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন। দেখা হলো বয়োবৃদ্ধ চাষী অপূর্ব দাশের সাথে। বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাজালিয়া গ্রামের মৃত বিবিসন দাশের পুত্র ষাটোর্ধ্ব বয়সের কৃষক অপূর্ব দাশ। বয়োবৃদ্ধ হলেও অপূর্ব দাশ সুদীর্ঘকাল ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আউশ, আমন, বোরো ধান চাষ ছাড়াও আলু, লাউ, মরিচ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঢেড়শ, সরিষা, তিত করল প্রভৃতি চাষ করে আসছিলেন। এবার অপূর্ব দাশ তার কিছু জমিতে একসাথে শষা ও শিম চাষ করেছেন। দু’টি চাষে কানিপ্রতি তার ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে কানিপ্রতি ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি ভিন্ন জমিতে আলু চাষও করেছেন। বাজালিয়া ইউনিয়নের কৃষক সন্তোষ মহাজন জানান, এ বছর তিনি ৫ কানি জমিতে শিম চাষ করেছেন। কানিপ্রতি তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শিম বিক্রি করে প্রতি কানিতে ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন বলে আশা করেন। তিনি জানান, শিমের পোকা দমনে আমরা সবাই ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে জমিতে তেমন কীটনাশক ঔষধ দিতে হয় না এবং উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। ৩৯-ঊর্ধ্ব বয়সের শিম চাষী বাসু দেব রুদ্র জানান, দেড় কানি জমিতে তিনি শিম চাষ করেছেন। ফসলও ভাল হবে বলে আশা করছেন। বয়োবৃদ্ধ আরেক কৃষক সাবুল দাশ’র জমিও ফুল-ফলে ভরে উঠেছে।
কৃষক ও সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাতকানিয়ার শিম চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কর্মকর্তা টিটু দাশ জানান, বাজালিয়া ইউনিয়নে ২০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হচ্ছে। তিনি জানান, ইউনিয়নের কৃষকরা শিম ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করছেন। বিষমুক্ত হওয়ায় শিম-চাষীরা ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শোয়েব মাহমুদ বলেন, আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেরোমোন ফাঁদসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। এ সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে একদিকে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমছে অন্যদিকে সাতকানিয়ার কৃষকরা ভাল ফলন পাচ্ছেন।

ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৮
সৈয়দ মাহফুজ-উন নবী খোকন, সাতকানিয়া