সাজেক ভ্যালী

Photo Courtesy: Fazlur Rahman Shamim


সাজেক রাংগামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক আয়তনে বিশাল, বাংলাদেশের অনেক উপজেলার চেয়েও আয়তনে বড়। এটির অবস্থান খাগড়াছড়ি জেলা থেকে উত্তর-পুর্ব দিকে। মুল সাজেক বলতে যে স্থানকে বুঝায় সেটি হলো ‘রুইলুই’ এবং ‘কংলাক’ নামের দুটি বসতি, স্থানীয় ভাষায় ’পাড়া’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট।সাজেকে মূলত লুসাই,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।সাজেক থেকে ভারতের মিজোরাম সীমান্তের দুরত্ব ১০ কি.মি.।কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত সাজেক।

সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন। কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে। রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতি। অনেক বাচ্চারা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে অথবা ঐ টুকু আলোর ভিতরেই খেলায় মেতে উঠে। সাজেকে ৩টা হ্যালি প্যাড আছে ৩টার সৌন্দর্য তিন রকম। এছাড়া রুইলুই পারা হতে হেটে আপনি কমলং পারা পর্যন্ত যেতে পারেন এই পারাটিও অনেক সুন্দর এবং অনেক উচুতে অবস্থিত । কমলার সিজনে কমলা খেতে ভুলবেন না। সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা । বাংলাদেশ আর্মিদের দারা রুইলুই পারার অধিবাসীদের জন্য একটা ছোট তাত শিল্প গরে তোলা হয়েছে। সুন্দর সুন্দর গামছা ,লুঙ্গী পাওয়া এখানে।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে এস.আলম,ইকোনো,শান্তি, সৌদিয়া, ঈগল আর শ্যামলীর নন এসি আর সেন্টমার্টিন এর এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। ছাড়ে গাবতলী থেকে রাত ৯ টা আর সায়েদাবাদ থেকে ১১টার দিকে। খাগড়াছড়ি পৌছায় ৭টা-৮টার দিকে। ভাড়া নন এসি৫২০ ও এসি ৭০০ টাকা।খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকার ফিরতি বাস ছাড়ে সকাল ১১টা, বিকাল ৩ টা ও রাত ৯ টায়। শান্তি খাগড়াছড়ি হয়ে দীঘিনালা পৌছায় সকাল ৮টা ৩০ এর মধ্যে। শান্তির দিনে ও রাতে একাধিক বাস আছে।ভাড়া নন এসি৫৮০ ও এসি ৬৫০ টাকা।ফিরতি গাড়ী সন্ধ্যা ৭ টা ১০ এ। শ্যামলীর রংপুর থেকে, শান্তি নন এসি আর বিআরটিসি এসি চট্টগ্রাম থেকেও ছাড়ে।চট্টগ্রামের ফিরতি গাড়ী আছে সকাল পৌনে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
সাজেক রাঙ্গামাটিতে পরলেও খাগড়াছড়ি হয়ে যাতায়াত সুবিধা । শুধু সাজেকের জন্য (যারা আলুটিলা অথবা রিসাং যাবেন না) অবশ্য দীঘিনালা হয়ে যাতায়াত ভালো।
যারা খাগড়াছড়ি হয়ে আসবেনঃ ঢাকা-টু খাগড়াছড়ি আসবার জন্য এস.আলম, সৌদিয়া, ঈগল, শান্তি আর শ্যামলীর নন এসি আর সেন্টমার্টিন, বিআরটিসি এর এসি পরিবহনের বাস রয়েছে । খাগড়াছড়ি থেকে দিঘিনালা পর্যন্ত বাস/চান্দের গারি/ সিএনজি রয়েছে । বাসে অ চান্দের গারিতে ভারা ৪৫/- জনপ্রতি । দিঘিনালা থেকে জন ভেদে চান্দের গাড়ি অথবা মটর বাইক নিতে পারেন । একদিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া পরবে ৩০০০/- টাকা ২দিনের জন্য ৫০০০/- ( কথা বলে নিতে হবে ) ১২/১৩ জন যেতে পারবেন । এছারা মটর বাইক রয়েছে আপডাউন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।
যারা রাঙ্গামাটি হয়ে আসবেনঃ রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে লঞ্চযোগে অথবা সড়কপথে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২৫০ টাকা। সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব। ঢাকা থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাদেঁর গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৩০০/-টাকা।

কখন যাবেন:

কখন যাবেন: শুধুই ঘুরাঘুরির জন্য হলে শীতকাল যাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হন আর পাহাড়ের সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখতে চান তবে বর্ষাকালে আসুন।

কোথায় থাকবেনঃ

সাজেক রিসোর্ট :রুইলুই পাড়ার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত আর্মি পরিচালিত এই রিসোর্ট। রুম আছে চারটি।ভাড়া ১০০০০,১২০০০ এবং ১৫০০০হাজার টাকা।রিসোর্ট রূনময়:এটি রুইলুই পাড়ার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি পরিচালিত একটি রিসোর্ট। রুম আছে পাঁচটি।ভাড়া ৪৪৫০-৪৯৫০ টাকা।টেন্ট:রিসোর্ট রুনময়ের সামনেই আছে চারটি টেন্ট,প্রতিটিতে থাকা যায় চারজন করে।খাবার সরবরাহ করা রুনময় থেকে।ভাড়া প্রতি টেন্ট ২৮৫০ টাকা। (কিছুদিন আগে কালবৈশখীতে একদম ভেঙ্গেচুরে গিয়েছিল। ঝড়ের মৌসুমে না থাকাই ভালো)
  • রিসোর্ট রুনময়,সাজেক রিসোর্ট এবং টেন্ট বুকিং-এর সব তথ্য তাদের(rock-sajek) ওয়েবসাইটে পাবেন।
আলো রিসোর্ট :এটি এনজিও সংস্থা আলো কতৃক পরিচালিত একটি রিসোর্ট।ছিমছাম এবং গোছানো একটি রিসোর্ট। অবস্থান রুইলুই পাড়ায় সাজেক রিসোর্টের সামনেই।ভাড়া ডাবল রুম ১০০০,সিঙ্গেল রুম ৭০০ টাকা।
  • আলো রিসোর্টের বুকিং এর জন্য;ruilui, sajek : 01863 606906head office : 01755 556699tel: 0371-62067
ক্লাব হাউজ:সেমি পাকা ঘরটি মূলত ওখানকার মানুষদের জন্য ক্লাব হিসেবে করে দিয়েছিলো আর্মি,তবে পর্যটক বেশি হলে অথবা এমনিতেই কেউ থাকতে চাইলে এখানে থাকা যায়।বিছানাপত্র কেয়ারটেকারই দিবে,ভাড়া ১৫০-২০০টাকা।খাবারের ব্যাবস্থা বললে কেয়ারটেকার করে দিবে,খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০টাকা। স্টুডেন্ট/যাদের থাকবার জন্য মোটামুটি একটা ব্যাবস্থা হলেই হয় তারা রুইলুই-ক্লাব হাউজে থাকতে পারেন । এর সামনে ফাকা কিছু জায়গা আছে । রাতে বারবি কিউ/গানবাজনা অরথাত মজা করার জন্য উপযুক্ত । এছাড়া যদি নিজেরা ক্যাম্পিং করতে চান করতে পারবেন।ক্যাম্পিং করার জন্য রুইলুই পাড়ায় অনেক গুলো সুন্দর স্পট রয়েছে।তবে ক্যাম্পিং করার আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলে নেবেন।

কোথায় খাবেনঃ

সাজেক রিসোর্ট, রিসোর্ট রুনময়,টেন্ট এবং আলো রিসোর্টে থাকলে খাবারের ব্যাবস্থা রিসোর্ট থেকেই হবে।ক্লাব হাউজে থাকলে সেখানকার কেয়ারটেকার কে দিয়ে খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারবেন।এছাড়া যারা ক্যাম্পিং করবেন বা বাহিরে থাকবেন তারা মারুতি হোটেলসহ আরো দুএকটা আদিবাসী পরিচালিত হোটেলে খেতে পারবেন,তবে দুই ঘন্টা আগেই খাবার অর্ডার করতে হবে।খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০টাকা।রিসোর্ট রুনময় এবং আর্মি পরিচালিত ক্যান্টিনে অর্ডার করলেও ওরা খাবার করে দেবে তবে এখানে দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে।

খাবার ব্যাবস্থার জন্য পূর্বেই যোগাযোগ করে নিতে পারেন। মানুষ কম হলে ওইখানে গিয়েও করতে পারেন । ভাত + সবজি বললে রিসোর্টের তত্যাবধানে যিনি আছেন তিনি ব্যাবস্থা করতে পারেন মাছ/ মাংস পথে মাচালং বাজার থেকে নিয়ে গেলে ভাল হয়। সব চেয়ে ভাল হয় এক রাত সাজেক থাকলে ।

আশেপাশের দর্শনিয় স্থান

সাজেক যাওয়ার পথে দিঘীনালা থেকে ৮কি.মি. দূরে দিঘীনালা-সাজেক রোডের পাশেই হাজাছড়া ঝর্ণা দেখে নিতে পারেন,মূল সড়ক থেকে ১০-১৫ মিনিট হাটলেই দেখা পেয়ে যাবেন এই অপূর্ব ঝর্ণাটির।
তৈদুছড়া নামে আরো একটি অসাধারণ ঝর্না রয়েছে দিঘীনালায়,তবে এটি দেখতে হলে আপনাকে আলাদা করে একদিন সময় রাখতে হবে শুধু এই ঝর্ণাটির জন্য।দিঘীনালার জামতলি থেকে হেঁটে এই ঝর্ণায় জেতে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৬-৭ঘন্টা।দিঘীনালা বাস স্টেশন থেকে ইজিবাইকে জামতলি যেতে পারবেন,ভাড়া প্রতিজন ১০টাকা।এই ঝর্ণায় যাওয়ার সময় অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার নিয়ে যাবেন সাথে,কারন জামতলির পরে আর কোন দোকান নেই।তৈদুছড়া ঝর্ণায় জেতে হলে স্থানীয় অথবা পথ চেনে এমন কাউকে সাথে নিতে হবে।দিঘীনালা-সাজেক রোডের নন্দরামে নেমে যেতে হবে সিজুক ১ এবং ২ ঝর্ণায়, পায়ে হেটে আসা যাওয়ায় সময় লাগবে ৬-৮ ঘন্টা,সাথে খাবার এবং গাইড নিয়ে যেতে হবে অবশ্যই। সাজেক নামে আলাদা করে কোন বাজার বা এমন কিছু নেই।রুইলুই পাড়াতেই সব রিসোর্ট এবং দোকান।এই পাড়াতেই রয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড এবং আর্মির তৈরি পার্ক। সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করা হয় রুইলুই পাড়া এবং কংলাক পাড়া থেকে।রুইলুই থেকে কংলাক পাড়ায় হেটে যাওয়া যায়,অথবা নিজেদের গাড়ি থাকলে গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়,দূরত্ব দুই কি.মি. প্রায়।পুরোটাই কাঁচা সড়ক।কংলাকে মূলত লুসাইদের বসবাস,ইদানিং কিছু ত্রিপুরা পরিবার সেখানে বসবাস করছে।চার বছর আগে কংলাকে যেয়ে অনেক পাংখোয়া আদিবাসীর দেখা পেয়েছিলাম,এখন তারা পাহাড়ের আরো গহীনে চলে গেছে।স্থানীয় লুসাইদের কাছে শুনলাম ওরা বেশি জনসমাগম পছন্দ করেনা।তাই এই দিকে বেশি পর্যটক আসাযাওয়া শুরু হওয়ার কারনে ওরা আরো গহীনে চলে যায়।সাজেকের সকালটা একরকম সুন্দর,বিকেলটা আবার অন্যরকম,রাতে চাঁদের আলোয় যদি সাজেকের সুনসান রাস্তায় হাঁটা না হয় তবে সাজেক ভ্রমনই বৃথা!সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অন্তত এক দুইদিন থাকতেই হবে।সাজেক যাওয়ার ভালো সময় বর্ষা এবং শীত।বর্ষার টুপটাপ বৃষ্টি, হাতের কাছে নেমে আসা মেঘ আর চারদিকের সবুজ মিলিয়ে সাজেক যেন পাহাড়ের রানী হয়ে উঠে।শীতের কুয়াশাঢাকা সাজেক আবার আলাদা রকম সুন্দর।

হাজাছড়া ঝর্না
সিঝুক ঝর্না

টিপসঃ

  • ইদানীং সাজেক রোডে ছোটছোট আদিবাসী ছেলেমেয়েরা গাড়ি দেখলেই রাস্তায় এসে হাত নাড়াতে থাকে,ওরা মনে করে সব গাড়ি থেকেই চকলেট দেবে।এটা আগে ছিলোনা।ব্যাপারটা ভালো আবার খারাপ।ওদের জন্য কিছু নিয়ে যাবেন, তাদের কে দেবেন, ভালো কথা তবে এতে করে যে ওদের অভ্যাস খারাপ করে ফেলছি আমরা সেদিকেও নজর দেয়া উছিৎ।ওরা যখন দৌড়ে রাস্তার উপরে চলে আসে তখন পেছন থেকে একটা গাড়ি চলে আসলে কি হবে একবার ভাবেন।সাজেক রোডের বাঁকের জন্য গাড়ি আসছে কিনা তা খুব বেশি দূর থেকে দেখা যায়না।তাই কিছু যদি দিতে হয় তবে গাড়ি থামিয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে দিবেন।
  • সাজেক শুধু রবি এবং টেলিটক নেট পাওয়া যায়,তাই আসার সময় এর যে কোন একটি অপারেটরের সিম নিয়ে আসবেন।রবি'র নেটওয়ার্ক অপেক্ষাকৃত ভালো।পারলে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে আসবেন।সাজেকে বিদ্যুৎ নেই।সোলার পাওয়ারে চার্জ হতে সময় লাগে বেশি এবং সহজলভ্য নয়।
  • দিঘীনালা-সাজেক রোডে বাঁক গুলো যথেষ্ট বিপদজনক এবং পাহাড় অনেক খাড়া তাই যারা জীপের ছাদে যাবেন সতর্ক থাকবেন।অনেকেই ছাদে বসে ছবি তোলায় মগ্ন থাকেন,এই অবস্থায় জীপ মোড় ঘোরার সময় কোন কিছু ধরে না থাকার কারনে পড়ে যেতে পারেন এবং ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
  • নিজের গাড়ি নিয়ে অথবা ভাড়া করা মাইক্রো /কার নিয়ে সাজেক যাওয়া যায়,তবে সবচেয়ে ভালো হয় এই রোডে নিয়মিত যাতায়াত করা কোন চালকের গাড়িতে গেলে।বিশেষ করে দিঘীনালা থেকে সাজেক পর্যন্ত। এই রোডটুকুই ঝুঁকিপূর্ণ।চালকের সামান্য ভুলে মুহুর্তেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
  • যেহেতু সাজেক রোডে নিদিষ্ট কোন গাড়ি নেই তাই ড্রাইভাররা পর্যটক দেখলে যেমন খুশি ভাড়া চেয়ে বসে থাকে।দরদাম করে গাড়ি নেবেন।
  • আপনি চাইলে আদিবাসীদের ঘরে ঢুকে ছবি তুলতে পারবেন,কোন সমস্যা নাই,তবে আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন।অনেকেই দেখি অনুমতি ছাড়াই আদিবাসী মেয়েদের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে, সেখানে আবার রসালো মন্তব্যও করতে দেখা যায় অনেককে।ছবি গুলো দেখলেই বোঝা যায় এটা বিনা অনুমতিতে এবং তার অজান্তেই তোলা হয়েছে।এসব করতে গিয়ে যদি একবার ধরা খান তাহলে উত্তমমধ্যম খেয়ে বিচার দেয়ার জন্য 'কত্তিপক্ষ'ও খুঁজে পাবেন না।পাহাড়ের মানুষ সরল,তবে সরল মানেই বোকা ভাবা ঠিক নয়।আর এসব করে নিজের না যতটুকু ক্ষতি করবেন তার চেয়ে বেশি করবেন পরবর্তিতে যারা ঘুরতে যাবে তাদের।এসব চলতে থাকলে পর্যটকদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে পাহাড়ের এই সরল মানুষ গুলোর।
  • দিঘীনালা-সাজেক রোডে নিরাপত্তা বাহিনীর চারটি ক্যাম্প পড়বে প্রতিটিতেই টীমের একজন সদস্য নেমে টীম সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
  • খাগড়াছড়ি যেতে ফেনী'র পরে আর সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই এবং দিঘীনালার পরে আর পেট্রল বা অকটেন পাম্প নেই,যারা নিজেদের গাড়ি নিয়ে যাবেন এই ব্যাপার গুলো খেয়াল রাখবেন।
  • দুইদিন তিনদিনের জন্য জীপ ভাড়া করে সাজেকে বসিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই,সাজেক এলাকাটাই এমন সেখানে ঘোরার জন্য গাড়ির প্রয়োজন হয়না।তাই যখন যাবেন শুধু যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করবেন।আসার সময় অন্য পর্যটক নিয়ে যাওয়া গাড়ি ফেলে সেগুলোতে চলে আসতে পারেন অথবা ফোন করেলও দিঘীনালা থেকে গাড়ি যেয়ে নিয়ে আসবে।* সাজেকে মোটামুটি সব ধরণের শুকনো খাবার পাওয়া যায়। চায়ের দোকান খোলা থাকে রাত ১১টা অবধি। অযথা ঢাকা থেকে বোঝা বইবেন না। তবে নিজেরা রান্না করে খেতে চাইলে অথবা বার বি কিউ করতে চাইলে প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র দিঘীনালা থেকেই নিয়ে নিতে হবে।

ট্যুর প্লানঃ
  1. রাতের বাসে, ঢাকা – খাগড়াছড়ি/দীঘিনালা
১ দিনঃ বাস থেকে নেমে সকালের নাস্তা সেরে -খাগড়াছড়ি/দীঘিনালা – সাজেক - আলো রিসোর্ট । ২দিনঃ সাজেক – দীঘিনালা – তৈদুছড়া ১ ও ২ ঝর্ণা অথবা সিজুক ১ ও ২ ঝর্ণা - খাগড়াছড়ি (রাতের বাসের টিকিট নিয়ে নিবেন)– (সময় থাকল)আলুটিলা ও গুহা – রিসাং ঝর্ণা-- খাগড়াছড়ি- ঢাকা ( রাতের বাসে )
কিছু প্রয়জনিয় নাম্বারঃ সাজেকের হেডম্যানঃ লাল তাঙ্গা লুসাই ০১৫৫২৭২৬৯৮৭ । সেন্টমারটিন পরিবহনঃ০১৭৩২৪০৬৩৫২, ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । শ্যামলি পরিবহনঃ০১৮১৫২৭৩৯৪২,০২৯০১৪৫৬০ । বিআরটিসি আরামবাগঃ ০১৬৮৯৯২৮০৪২সৌদিয়া ফকিরারপুলঃ ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮

কৃতজ্ঞতাঃ ১। মইনুল হাসান ২। রাহী ৩। শাহিন কামাল

চিটাগং এন্ড সাম টকিংস - রাকিব আদনান চৌধুরী



চিটাইংগা, নিজেদের এই পরিচয়টাতেই যথেষ্ট গর্ববোধ করি আমরা। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, পুরো বাংলাদেশের সব এলাকার মাঝে এই চট্টগ্রামের মানুষদেরই অাঞ্চলিকতা কোন কোন ক্ষেত্রে সামগ্রিক দেশাত্মবোধকেও ছাপিয়ে যায়। 

যাই হোক, চট্টগ্রামের মানুষদের বিয়ের বেলায় হ্যাপাও কম পোহাতে হয় না। কিছু কিছু রিতীনিতীতে আমি নিজেও বেশ বিরক্ত। তবে দেখা যাক চট্টগ্রামের একটা ছেলের বিয়ে থেকে শুরু করে বিয়ে পরবর্তী সময়ে কি কি ঘটনা ঘটে। 

  • পাত্রী দেখার শুরুতেই (হোক সেটা প্রেমঘটিত) দেখা হয় পাত্রী পক্ষ "ভইংগা" কিনা। চট্টগ্রামের মানুষ যতই উচ্চশিক্ষীত কিংবা হাই সোসাইটির হোক না কেনো তারা চট্টগ্রামের বাইরে আত্মীয়তা করতে চায় না। আর চট্টগ্রামের বাইরের মানুষদের (বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরের) ঐ বিশেষ শব্দে ডাকা হয়। আসলে এর মূল কারন হলো বংশপরিচয় এবং বংশপরম্পরা। নিজেদের মাঝে আত্মীয়তায় এতো বেশী আষ্টেপিষ্টে গেছে যে এরা চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে পাত্রী কিংবা পাত্রপক্ষ সম্পর্কে সংবাদ কালেকশান করার ঝামেলা ইনারা পোহাতে চান না। 
  • এরপর আসে পাত্রীপক্ষ "রোয়াই" কিনা। মানে রোহীংগা মুসলিম কিনা। এটার ক্ষেত্রে অনেকে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করে এখন। 
  • বিয়ের ডেট ঠিক হলো। এবার আসে সবচেয়ে বিরক্তিকর প্রথাটা। নাম দেয়া হয়েছে " দেয়া - নেয়া "। পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষকে এবং Vice Versa এই কাহিনী ঘটে থাকে। পাত্রীপক্ষকেই শোষণ করা হয় মূলত। একটা লিস্ট দেই যে কি কি দিতে হয় -  বিয়ের সময় ফার্নিচার, শ্বশুরবাড়ির সবাইকে জামাকাপড় (শ্বশুরবাড়ির মানে লিস্টটা লতা পাতা পর্যন্ত) -গ্রীষ্মকালে ট্রাকভর্তি না হলেও নিদেনপক্ষে সিএনজি ভর্তি ফলমূল। - রোজার ঈদে আবার জামাকাপড়। - কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল। - রোজার সময় ইফতারী। এরকম প্রতিটা ফাংশানে কিছুনা কিছু দেয়া চাই ই চাই। এগুলার কোনটাই আবার খুঁজতে হয় না। সানন্দে শুরু করা কিছু মানুষের বিলাসীতা এখন চট্টগ্রামের সবার জন্য ফরজ হয়ে গেছে। তেতো সত্য হলো বাইরের লোকেরা এগুলা দিতে পারে না বলেই তাদের সাথে নো অাত্মীয়তা।  সো বাইরের জেলার যাদের বিভিন্ন এপস এ ম্যারেজ প্লেস চট্টগ্রাম আসছে প্রিপারেশান নেয়া শুরু করে দেন!  কিন্তু বছরের পর বছর এসব রিতীনিতী মেনেই আশ্চর্যজনক ভাবেই চট্টলা ঠিকে আছে। আজো কুঁড়েঘর থেকে প্রাসাদের বাসিন্দা সব চিটাইংগাই এসব রিতী মানে কিংবা মানতে বাধ্য।

 এবার আসি এতো কিছুর পরও কেনো টিকে আছে চট্টলার পরিবারগুলো 
  • বিশ্বাস করুন আর নাই করুন বাংলাদেশের সবচেয়ে সুখী মানুষগুলোর দেখা এখানেই পাবেন। পাবেন সবচেয়ে উদার মানুষগুলার দেখা। এখানে এখনো টিকে আছে সমাজ ব্যবস্থা। সমাজের সবগুলো মানুষ মিলেই মেয়েদের বিয়ে দেয়, বিশেষ করে গ্রামে । তাই ভারটাও অতবেশী পড়ে না অক্ষমদের ক্ষেত্রে। 
  • সবচেয়ে ভোজনরসিক মানুষগুলো পাবেন এখানে। খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসে এখানকার মানুষেরা। যে চট্টগ্রামে এসে মেজবান খেয়ে যায় নাই, তার লাইফ বৃথা।
  •  সংগ্রামের সাথে নিত্য পরিচয় এখানকার মানুষদের। "সিনা দি টেকাই আঁরা জর তুয়ান "! সব কিছুর মাঝেও একগাল হেসে জিজ্ঞেস করবে - " বদ্দা, কেন আছন? " 
  •  আর এতো দেয়া নেয়া প্রথার কারনেই বোধহয় আত্মীয়তার বন্ধনটা এতো প্রবল। এই প্রথার কারনে বছরে দু তিনবার করে হলেও সব নিকটাত্মীয়র কাছে ঘুরা হয়, খোঁজখবর নেয়া হয়। যেটাতে মোটামুটি পুরো বাংলাদেশ পিছিয়ে। আর একারনেই সবচেয়ে বেশী একান্নবর্তী পরিবার টিকে আছে এই চট্টলার বুকে (আমাদের টাও)।
  • খুব আবেগী এখানকার মানুষগুলা। আত্মীয়ের সম্পর্ক থাকা লাগে না, লাগে না নাঁড়ীর সম্পর্ক, শুধু একবার বিপদে পড়ে দেখেন, হয়তো অনেক ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয়দের আগে এগিয়ে আসবে এই মানুষগুলাই। কেও যদি না আসে তাহলে ধরে নেন সে সংকারীয়ত চিটাইংগা। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে আপনাকে সাহায্য করবার এই "চিটাইংগা" রা। 
  •  যাই হোক, এট লাস্ট হেভ টু সে, প্রাউড টু বি এ চিটাইংগা!  অনেক পুরাতন একটা লেখা। ২০১৩ এর দিকে লিখেছিলাম। আফসোস চিটাইংগা শব্দটা কেঁড়ে নেয়া হলো। 
মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকলে বলতো - " কিরমিয়ে গুঁতারদে না ওডো? চিটাং এর নাম চিটাং ই থাইবু! "

ছাত্রীদের যৌন হয়রানি: চট্টগ্রামের শিক্ষক ঢাকায় গ্রেপ্তার


পঞ্চম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় চট্টগ্রামের চরপাথরঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেমকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ঢাকার মিরপুর থেকে আবুল হাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে কর্ণফুলী থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ওসি এর আগে জানিয়েছিলেন, আবুল হাসেম স্কুলে বিকালে ও সন্ধ্যায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতেন। এ সময় তিনি ছাত্রীদের শরীরে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করতেন। সম্প্রতি ছাত্রীরা তাদের স্বজনদের বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন হয়রানির শিকার এক ছাত্রীর অভিভাবক।
ওই শিক্ষকের খোঁজে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা জানিয়েছিল, স্কুলের কাজে আবুল হাসেম ঢাকা গেছেন।

চট্টগ্রামে দর্জির দোকানের কর্মচারীকে ছুরি মেরে হত্যা

নিহত সাইফুল আলম রাকিব (২৩)


চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার তক্তার পুল এলাকায় ছুরি মেরে এক দর্জির দোকানের কর্মচারীকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত সাইফুল আলম রাকিব (২৩) বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকার সওদাগরের ছেলে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে। সোমবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ডের পর মনির হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে তক্তার পুল এলাকার কাসেম বিল্ডিংয়ের সামনে রাকিবকে ছুরি মারা হয়।

“এ ঘটনায় তিনজন জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের মধ্যে একজন মনির হোসেন। অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পূর্ব বিরোধের জেরে তারা রাকিবকে খুন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি।”

তবে কি নিয়ে তাদের বিরোধ ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে রাকিবকে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।





ইতিহাসের সাক্ষী চট্টগ্রামের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর

ফয়সাল উদ্দীন নীরব : রেল ভ্রমণ পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই রেল ভ্রমণকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

ব্রিটিশ আমল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলদেশ রেলওয়ের ইতিহাস ব্যাপক বিস্তৃত। দিন যত এগুচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায়। কালের বির্বতনে রেলের স্টিম ইঞ্জিন এখন আর বগি নিয়ে দৌড়ায় না। 
রেলওয়ে জাদুঘর - ছবি : ফয়সাল উদ্দিন নীরব 


১৮৬২ সাল হতে শুরু করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আজ পেরিয়ে এসেছে দেড়শ’বছর। এর মধ্যে হয়েছে অনেক পরিবর্তন, রেলওয়ে প্রত্যক্ষ করেছে অনেক পালাবদল। দীর্ঘ এই পথচলায় রেলওয়ের অনেক যন্ত্রাংশ আর আগের মতো নেই। থাকার কথাও না। অনেক পরিবর্তন হয়েছে যন্ত্রপাতির। পরিবর্তনের ছোয়ার ফলে পুরোনো যন্ত্রাংশকে বাতিল বলে গণ্য করতে হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। আর এসব বাতিল হওয়া যন্ত্রাংশগুলোর ঠাঁই হয় দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘরে।

জাদুঘরটির অবস্থান বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্ডে। ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেন। জাদুঘরের সম্পূর্ণ সীমানা ১২০০ একরের। জাদুঘরটি প্রায় ৪২০০ বর্গফুট এবং কাঠের তৈরি দোতলা। জাদুঘরটি দেখতে গেলে এর চারপাশের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে হয়তো হতাশ হতে হবে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই একমাত্র জাদুঘরটির অবস্থা দেখে। মরচে পড়া টিন ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে বুঝা যায় বার্ধক্যের ভারে ঝিমুচ্ছে জাদুঘরটি। আর হয়তো কিছুদিন পর টিন, কাঠগুলো খসে খসে পড়বে। জাদুঘরটির ঠিক পাশেই রয়েছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী প্রীতিলতার স্মৃতি ধারণকারী ইউরোপিয়ান ক্লাব।

জাদুঘরটিতে প্রবেশ করলেই আপনি দেখতে পাবেন রেলওয়ের যন্ত্রপাতির চার ভাগে রাখা আছে। বামদিকের গ্যালারিতে রয়েছে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে, ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন মনোগ্রাম।
      
রেলওয়ে জাদুঘর - ছবি : ফয়সাল উদ্দিন নীরব

এছাড়া দেখতে পাবেন ডায়নামো, লোকোমোটিভ সেফটি ডিভাইস, ডেডম্যান, অ্যালার্ম বেল স্পিডোমিটার, বিভিন্ন ধরনের লাইট যেমন ঝাড়বাতি, রিনিং ল্যাম্প, গেইট ল্যাম্প, টেইল ল্যাম্প ইত্যাদি। রয়েছে রেলওয়ের গার্ডদের ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, ক্যাপ, ডেটিং মেশিন, পিতলের ব্যাজ, গার্ডবোট, হ্যামার সহ অনেক কিছু।

সংকেত বিভাগে সংরক্ষিত যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে দেখতে পাবেন পয়েন্ট টাইমিং মেশিন, মোর্স কি উইথ, সাউন্ডার, আর্ক লিভার, কন্ট্রোল কি, সিগনাল আর্ম, টুলবক্স, অ্যানালগ টেলিফোন, রোডল টেলিফোন, রেডিও ট্রান্সমিটার, রিসিভার ইত্যাদি।

প্রকৌশল ও ট্রাফিক বিভাগে দেখতে পাবেন ভেনসোমিটার, থার্মোমিটার, মেজারিং ক্যান, স্প্যানার সিঙ্গেল, অ্যাডেড বারটমি, মনোরেল হুইল বোরো প্যাকিং লেভেল ইত্যাদি।

শত বছরের ইতিহাস বহনকারী রেলওয়ের একমাত্র জাদুঘরটির নাজুক কাঠামোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক জামাল উদ্দীন জানান, ‘রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত কয়েক দিন আগে ঘুরে গেছেন, শিগগির সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

রেলওয়ে জাদুঘরটি শুক্রবার বন্ধ থাকে। দর্শনার্থীদের জন্য শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার খোলা থাকে, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যারাই ভ্রমণ করতে যান রেলওয়ের ইতিহাস বিজড়িত এই জাদুঘরটি দেখে আসতে ভুলবেন না।

লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় টেকনাফ স্থল বন্দরে


টেকনাফ স্থল বন্দরে মার্চ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণের বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত মাসে স্থল বন্দর শুল্ক বিভাগ ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক মার্চ মাসে ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ৪৬৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৮৫ কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পণ্য আমদানী হয়েছে। অপরদিকে ৬১টি বিল অব এক্সপোটের মাধ্যমে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকার পন্য মিয়ানমারে রপ্তানী হয়েছে।
এছাড়া শাহ পরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোরে ৬৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে গবাদি পশু আমদানী খাতে। করিডোর দিয়ে ১১৬৬৫টি গরু, ১৫১৫টি মহিষ আমদানীর বিপরীতে ওই রাজস্ব আয় হয়। তবে গত মাসে কোন ছাগল আমদানী হয়নি করিডোর দিয়ে।

রাজস্ব কর্মকর্তা আরো জানান, আমদানীকারকরা সচেষ্ট থাকায় মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত আমদানী হওয়ায় প্রায় দ্বিগুন রাজস্ব আয় হয়েছে।
আমদানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আদা, মাছ, চাউল, কাঠ, আঁচার, বরই ও তেতুল। অপর দিকে রপ্তানীপণ্যের মধ্যে রয়েছে গেঞ্জি, এলোমুনিয়াম, চুল ও স্যানিটারী সামগ্রী।

উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারী মাসেও ১৪ কোটি টাকার বেশী রাজস্ব আয় হয়েছিল যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুন।

দেশের শান্তি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন : প্রধানমন্ত্রী



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শান্তি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য নৌকায় ভোট চেয়ে বলেছেন, ‘নৌকা জনগণের প্রতীক’। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণানুযায়ী আগামী ডিসেম্বরেই হবে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে উন্নয়নের ধারবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’
শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণকালে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান- নৌকা মার্কা আপনাদের মার্কা, এই নৌকা মার্কা সবসময় মানুষকে উদ্ধার করে। নূহ নবীর নৌকা মানবজাতি এবং পশুপাখি সব রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের উন্নয়নের ধারবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যাকান্ড, খুন-খারাবি নয়, দেশের মানুষ যাতে শান্তি পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম বলেই আজকে সে উন্নয়নের সুফল আপনারা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেই ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে চাই। আর ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। এ জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, যারা জাতির পিতার খুনীদেরকে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যারা যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, তাদের হাতে যারা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দেয় তারা এদেশের কোন উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, তারা অতীতে কোন উন্নয়ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর অন্যান্য প্রাক নির্বাচনী জনসভার মত নৌকায় ভোট প্রদানের জন্য উপস্থিত জনগণের দুই হাত তুলে ওয়াদা চাইলে জনগণ দুই হাত তুলে এবং চিৎকার করে ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করে।
চাঁদপুর বাসীর উন্নয়নে তাঁদের কোন কিছু দাবি করা লাগবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখানে আড়াইশ’ বেডের একটি হাসপাতাল করে দিয়েছি এবং একটি মেডিকেল কলেজও করে দেব। আর চাঁদপুরের হাইমচরে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেব, পর্যটনের কেন্দ্র এখানে গড়ে তোলা হবে, নৌ ভ্রমণের জন্য বন্দোবস্ত সেখানে থাকবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপুমনি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম জনসভায় বক্তৃতা করেন। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও জনসভায় বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরের জন্য স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন, সব কিছুর উন্নয়নেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আজ ৪৭ টি উন্নয়ন প্রকল্পে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থপন করা হয়েছে।
চাঁদপুরের উন্নয়নে তাঁর সরকার কিছুই বাদ রাখেনি, বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা এ সময় তাঁর সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান এবং ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা মায়েদের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া এবং এজন্য ২০ লাখ মা’কে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া, সারাদেশে ৫২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টার করে উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ, আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের নিদেন পক্ষে একটি টিনের ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগসহ পোষ্ট অফিসগুলো ডিজিটাইজেশনের তথ্য তুলে ধরেন।
বেকারদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অর্থায়ন করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক করা, শ্রমিকদেরকে যেন জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয়, সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করা, বর্গাচাষীদেরকে বিনা জামানতে ঋণ দেয়া, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দেয়া, সব হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মহিলা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা এবং দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালুর তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খন্ড চিত্র তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এই আওয়ামী লীগকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এই নৌকায় ভোট দিয়েই এদেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। আর এই নৌকাই যখন ক্ষমতায় আসে তখনই উন্নয়ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করছি, জেলায় জেলায় আইটি পার্ক করে দিচ্ছি।’
মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনিদের চাকরির জন্য কোটার সুযোগ রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করে আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অনেকে জীবন দিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন, তাদের সম্মান করা। তাদের পরিবারকে সম্মান করা-এটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করেছি, তাই সম্মান করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর সে উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, এই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। কিন্তুু আপনারা জানেন এই বিএনপি-জামাত যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার করে, লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, মানি লন্ডারিং করে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে, জনগণের ঘর-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই কেড়ে নেয়, লুটে খাওয়াটাই ওদের চরিত্র।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা- ওরা এগুলোতেই পারদর্শী। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা-এটাই তাদের আন্দোলন। আপনারা দেখেছেন ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের মত মানুষকে আগুনে পুড়িয়েছে, ৫শ’ মানুষ মারা গেছে, প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার গাড়ি, বাস ট্রাক, লঞ্চ, রেল, সিএনজি-সব আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। আর আওয়ামী গড়ে তোলে, উন্নয়ন সাধন করে কারণ, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এই আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তুলে দেশের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম প্রত্যেকটা ওয়াদা আমরা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার থেকে বেশি কাজ করেছি। আজকে আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। এই চাঁদপুরে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে এবং আরও নতুন একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্রও হচ্ছে। যেখানে বিদ্যুতের লাইন নাই সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুতের লাইন দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।
ইনশাল্লাহ কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালবো, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল তারপরও জনগণ ভোট দিয়েছে, আপনারা ভোট দিয়েছেন, চাঁদপুরবাসী ভোট দিয়ে প্রত্যেকটা সিটে নৌকা মার্কাকে জয়যুক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, ভিক্ষুকের জাতির কোন ইজ্জত থাকে না। আমরা সব জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করবো। বাংলাদেশ হবে ভিক্ষুকমুক্ত। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলবো, কারোর কাছে হাত পাতবো না।
জনসভায় খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা টাকা মেরে দিয়েছে। এতিমের হক মেরে না খাওয়ার জন্য যেখানে পবিত্র কোরআন শরীফে পর্যন্ত নিষেধ আছে। তার জন্য আবার কিসের আন্দোলন।’
তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগে বিদেশে মামলা হয়েছে। আমরা সে টাকা সেখান থেকে ফেরত এনেছি।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় তাঁর সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্সনীতির পুনরুল্লেখ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে পুত্র ও পোষ্যদের দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং ধর্মগুরুদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সন্তান কোথায় যায়, কেন যায় সে বিষয়ে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আসবে ক্যাঙ্গারু, উট পাখি


বাঘ, সিংহ আর জেব্রার পর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এবার যোগ হলো উট পাখি। রোববার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দুটি উট পাখি আনা হয় ঢাকা থেকে। চিড়িখানায় পশুপাখি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফেলকন ট্রেডার্স ‘উপহার’ হিসেবে আফ্রিকান প্রজাতির এই উট পাখি দুটি দিয়েছে।

এছাড়া আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে আসতে পারে ক্যাঙ্গারু। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রুহুল আমিন  বলেন, “প্রায় ছয় মাস বয়সী উট পাখির বাচ্চা দুটো সকালে ঢাকা থেকে এসে পৌঁছেছে।

“চিড়িয়াখানা চট্টগ্রামের শিশুদের বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একে আরও আকর্ষণীয় করতে ক্যাঙ্গারু আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন।” রুহুল আমিন বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অফিশিয়াল পত্রের মাধ্যমে আমাদেরকে দুই জোড়া ক্যাঙ্গারুর মূল্য জানাতে বলেছি।

“প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যাচাই করে কার্যাদেশ দেব। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্যাঙ্গারু সংগ্রহের কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।”

১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় ছয় একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ চিড়িয়াখানায় বর্তমানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বাঘ, সিংহ, হরিণ, কুমির, অজগর, ভাল্লুকসহ প্রায় ৪৭ প্রজাতির প্রাণী।

দীর্ঘদিন বাঘ ও সিংহ ছাড়া থাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকা খরচ করে আনা হয় এক জোড়া বাঘ। এর তার আগে ৫ সেপ্টেম্বর ‘অদল-বদল’ প্রক্রিয়ায় রংপুর চিড়িয়াখানায় একটি সিংহী দিয়ে একটি সিংহ আনা হয়।

এছাড়াও গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয় চারটি ময়ূরী। সবশেষ গত ৬ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয় ছয়টি জেব্রা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেন আটকাতে চালককে ‘অপহরণ’



রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনের চালক বা লোকে মাস্টারকে তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নগরীর ষোলশহরের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে একটি শাটল ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এর আগেই ওই ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে বর্তমানে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।”

রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেন চলাচল করেনি বলে জানান শাহাবুদ্দিন।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে এক সংগঠনের নেতারা ট্রেনচালককে ধরে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অতীতেও নানা সময় দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শাটল ট্রেনের চালককে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। দিনশেষে তাদের ফিরে পাওয়া যায়। মূলত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতেই এটা করা হয়। এবারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, “শাটল ট্রেনের লোকো মাস্টারকে অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। আমরা বিষয়পি রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” তবে কে বা কারা অবরোধ করেছে, তা জানেন না বলে জানান তিনি।

আট দফা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আট দফা দাবিতে একটি সংগঠন থেকে বেনামি একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যে দফাগুলো দিয়েছে, তার কোনোটি পূরণ করার মতো নয়, শুধু মাত্র শাটল ট্রেনের বগিবৃদ্ধির দফাটি ছাড়া। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা অতি শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য বরাবর আট দফা দাবিতে একটি চিঠি দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

আট দফা দাবির মধ্যে আছে -প্রতিটি বিভাগের সেশন জট নিরশন ও শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রশাসনিক পদে থাকা জামায়াত-বিএনপিপন্থিদের অপসারণ, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগকৃত প্রতিক্রিয়াশীলদের নিয়োগ বাতিল, শিক্ষক বাসে বোমা হামলাকারী শিবির ক্যাডারদের চাকরিচ্যুত করা, খালেদা জিয়ার নামে করা হলের নাম পরিবর্তন, বঙ্গবন্ধুর নামে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের হাতে নিহত ছাত্রনেতাদের হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

নতুন যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনে কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতারা সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ছাত্রলীগের একাংশ নেপথ্যে থেকে তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশখালীর চাম্বল ব্রিজ




বাঁশখালীর প্রধান সড়কের একমাত্র চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোন সময় বাঁশখালীর প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশংকা করছে সাধারণ জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কে বিগত দিনে ৫টি বেইলী ব্রীজ থাকলেও বর্তমান সরকার মতায় আসার পর প্রধান সড়ক সংস্কারের পর পর বৈলছড়ি ব্রীজ, টাইম বাজার ব্রীজ, নাপোড়া ব্রীজ ও প্রেম বাজার ব্রীজটি নতুন করে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শেষ করলেও চাম্বল বাজার ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে এই বেইলী ব্রীজটি বিগত দিনে বেশ কয়েকবার পাটাতন নষ্ট হয়ে এবং গাড়ী উল্টে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তারপরেও এই ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গাড়ী দিয়ে যাতায়াত ছাড়াও সাধারণ ভাবে চলাচলেও নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীও চরম ভাবে বেকায়দায় পড়ে এই ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করতে। চাম্বলের বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলী ব্রীজটি পারাপারে যানবাহনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও ঝটলা হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রীজটি সংস্কার করা না হলে যেকোন সময় প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙে পড়ছে। অপরদিকে ৮–১০টি দোকান প্রধান সড়কের উপর প্রতিদিন বসায় যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে।

বিশেষ করে পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল, সাধনপুর, বৈলছড়ি বাজার, উপজেলা সদর জলদী ও মিয়ার বাজার, শীলকূপ টাইম বাজার ও চাম্বল বাজার। পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল ও চাম্বল বাজারের অসহনীয় যানজট দীর্ঘদিন যাবৎ এই যানজট নিরসনে কার্যকর সভা সমাবেশ ও মিটিং করলেও প্রতিকার পাইনি জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের চাম্বল বাজারের বেইলী ব্রীজ সংস্কার ও প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন এই প্রত্যাশা জনগণের। এদিকে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বর্তমান যে গর্তগুলো হয়েছে এবং দুই পাশের মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে । কাজ ও শুরু হবে। বাশঁখালী বাসী যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা পায় সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি বলে তিনি আজাদীকে জানান ।


০১-০৪-২০১৮