চট্টগ্রামের সমাবেশে গণতন্ত্র ফেরানোর ডাক দিলেন আমীর খসরু



চট্টগ্রামে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যাত্রা শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য জনগণের কাছে দেশের মালিকানা হস্তান্তর করা। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ, জেল, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের' প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিজয় র‍্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিক হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। জনগণ এখন ধানের শীষ ও জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন নির্বাচনের সড়কে প্রবেশ করেছি, এবং জনগণ ধানের শীষের অপেক্ষায় আছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে।” তিনি নেতাকর্মীদের গণতন্ত্রের এই যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

আমীর খসরু বলেন, কিছু শক্তি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য আর কোনো জায়গা থাকবে না। “বাংলাদেশে আর জনগণকে বাদ দিয়ে দেশ চালানো যাবে না,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণকে বাইরে রেখে দেশ চালিয়েছেন, যা দেশের মানুষ আর কখনো মেনে নেবে না।

বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আগামী ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা হবে বিনামূল্যে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, আবুল হাশেম বক্কর, আবু সুফিয়ান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম তেনজিং এবং ইদ্রিস মিয়া। সমাবেশ পরিচালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা।


বিজয় র‍্যালি ও অন্যান্য নেতার বক্তব্য

সমাবেশ শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিজয় র‍্যালি নিউ মার্কেট মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিটি কোতোয়ালী মোড়, লালদিঘী, বক্সিরহাট, আন্দরকিল্লা, চেরাগি মোড় হয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান বক্তা মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী আখ্যা দিয়ে তাঁকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।

সাবেক সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সফল বাংলাদেশ গড়া হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই ধানের শীষ ক্ষমতায় আসবে।

চসিকের অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চট্টগ্রাম নগরের ফুটপাত ও নালার উপর থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সকালে আলকরণ জিপিও সামনে থেকে সদরঘাট রোড, অমর চাঁদ রোড ও আইস ফ্যাক্টরি রোডের উভয় পাশ থেকে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার। চসিক সূত্র জানায়, অভিযানকালে নগরীর আলকরণ জিপিও সামনে থেকে সদরঘাট রোড, অমর চাঁদ রোড ও আইস ফ্যাক্টরি রোডের উভয় পাশের ফুটপাত ও নালার উপর থেকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্ধিত অংশ, দোকানের সামনের শেড, স্তূপকৃত মালামাল ও ভাসমান দোকানপাটসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় সদরঘাট রোডে ফুটপাতে ইট রেখে জনসাধারণ চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ক্রেমলিন সিটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ সহায়তা করে।

চট্টগ্রামে জামায়াত নেতা নুরুল আলম গ্রেফতার

চট্টগ্রামে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা কাজী নুরুল আলম চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভাংচুর ও নাশকতার মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতা কাজী নুরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ভাংচুর ও নাশকতা মামলায় কাজী নুরুল আলম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’



তিনি জানান, নুরুল আলম চৌধুরীকে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ গ্রেফতার করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। গ্রেফতার এড়াতে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে চট্টগ্রাম

সাগর, পাহাড় আর নদীর মিতালী বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যেন প্রকৃতির রাজধানী। শত শত বছরের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য এনে দিয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানীর তমকা। তবে অদৃশ্য কারণে রূপকথার ‘সুয়ো রানী-দুয়ো রানী’র গল্পের মত বারবার অবহেলিত হয়েছে বীর সূর্যসেনের চট্টগ্রাম। এবার সেই অবহেলিত তকমা থেকে বের হয়ে আসছে বন্দরনগরী।

নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ফ্লাইওভার) এখন আর স্বপ্ন নয়। তিন বছরের মধ্যে এ ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। শিগগিরই শুরু হচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের কাজও। সব মিলিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দুয়ারে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নে আন্তরিক। দীর্ঘদিন উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত চট্টগ্রামে এরই মধ্যে বড় একটি ফ্লাইওভারসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পথে। এসব উন্নয়ন কাজ এখন দৃশ্যমান। এর আগেও হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করা হলেও জলাবদ্ধতা সব অর্জন নষ্ট করে দিয়েছে। তবে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেই বাধাও অনেকটাই কেটে যাবে।



এছাড়া দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণ। এসব প্রকল্প সঠিক সময়ে শেষ হলে আগামী পাঁচ বছরে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে যাবে চট্টগ্রাম। তবে পরিকল্পিতভাবে এসব উন্নয়নকাজ এখন শেষ করাটাই সময়ের দাবি।

কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগ সহজ হবে। চট্টগ্রামকে আরও আধুনিক একটি শহরে পরিণত করবে এ টানেল। এছাড়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণ চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।



সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ৯টি পয়েন্টে ১২ কিলোমিটারসহ মোট ২৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। চার লেনের এ প্রকল্পের প্রস্থ ৬০ ফুট। ফ্লাইওভারটির ৯টি জংশনে (স্টেশন) ২৪টি র‌্যাম থাকবে।

টাইগারপাস মোড় থেকে নিউমার্কেটের দিকে ওঠা-নামার সুযোগসহ র‌্যাম, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে, বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে স্ট্র্যান্ড রোডে যাওয়া-আসা, নিমতল বিশ্বরোড মোড় থেকে পোর্ট কানেকটিং রোডে ওঠা-নামা, কাস্টমস মোড়ে ওঠা-নামা, সিইপিজেড মোড়ে ওঠা-নামা, কর্ণফুলী ইপিজেড মোড়ে ওঠা-নামা, কাঠগড় মোড়ে ওঠা-নামা, সি-বিচ মোড়ে ওঠা-নামা এবং সর্বশেষ বিমানবন্দরে ওঠা-নামার সুযোগ থাকবে।

প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান বলেছেন, প্রকল্পটির কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে এই ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।

এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্প, মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভার, লালখানবাজার থেকে বিমাবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিটি আউটার রিং রোড, বায়েজিদ থেকে ফৌজদার হাট বাইপাস রোড, বাকলিয়া এক্সেস রোড, অনন্যা আবাসিকসহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দশটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।


চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশাল বাজেটের ওয়াসা মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর পুরো নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। নির্মাণের পর ফ্লাইওভারের ইলেক্ট্রনিক টোল থাকবে। তবে কোথায় কীভাবে টোল নির্ধারণ করা হবে, তা পরে চূড়ান্ত করা হবে।

এছাড়া নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোডের নির্মাণ কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ ফুট উচু সড়কটি চালু হলে নগরবাসী যানজটের যন্ত্রণা থেকে অনেকটা মুক্তি পাবে বলে আশা করছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ। চলতি মাসে (এপ্রিল) রিং রোডটি পরীক্ষামূলকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে জানান সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সাগর-নদী পরিবেষ্টিত চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য স্লুইচ গেট নির্মাণ, খাল খনন ও পাম্প মেশিন দিয়ে পানি সেচসহ নানা কর্মযজ্ঞ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাবেন।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গতকাল সোমবার (৯ এপ্রিল) বলেন, ‘২০০৮ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পদ্মা সেতুর পর চট্টগ্রামে একক বৃহৎ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্প এরই একটি অংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দুঃখখ্যাত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।’

কোটা হোক ১৭%

১। জেলা কোটা বাতিল হোক। যারা বিসিএস পর্যন্ত যান, তাঁরা প্রত্যেকেই ভালো স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটধারী।
২। নারীরা এতো ভালো করছেন বহুদিন থেকে যে নারীকোটা রীতিমত অপমানজনক অনেক নারীর জন্য। তবে অনগ্রসর এলাকা চিহ্নিত করে কিছু কোটা সেখানে থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ৫%। তবে অনগ্রসর এলাকার নারীরাও যদি ভালো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হন তাঁদের ক্ষেত্রেও এই কোটার বিরোধী আমি। তাঁরা স্বেচ্ছায় বিসিএস ফর্ম পূরণ করার সময়ে এই কোটার সুযোগ নিতে চান না মর্মে আন্ডারটেকিং দিতে পারেন।
৩। আদিবাসী কোটা থাকতে হবে আরো বহু বছর। পৃথিবীর সব দেশে আছে। ৫% থাকুক।
৪। প্রতিবন্ধী কোটা বাড়ানো হোক। ২%।
৫। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ নিয়ে ঝামেলাটা হচ্ছে। যুদ্ধফেরত/যুদ্ধে নিহত ভ্যাটারানদের সন্তান-সন্ততি পৃথিবীর সব দেশেই বিশেষ সুবিধা পান। মুক্তিযুদ্ধে কতজন অংশগ্রহণ করেছেন, সেই মর্মে তালিকা নিশ্চয়ই আছে।  সেখান থেকে প্রান্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি/পৌত্র-দৌহিত্রদের সুযোগের পক্ষে আমি। সেই সংখ্যা কোনভাবেই ৩০% হবে না। এমনকি ৫% হবে কি না সন্দেহ। মুশকিল হলো, এই কোটার সুযোগ নেয়া পর্যন্ত তাঁরা পৌঁছাতে পারেন না। বরং খুব প্রতিষ্ঠিত ঘরের, ভালো স্কুল-কলেজে শিক্ষিত শ্রেণীর অনেকে ছেলেমেয়েকে নির্লজ্জভাবে পিতামহ/মাতামহের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি করান বিশ্ববিদ্যালয়ে/ উচ্চ শিক্ষায়তনে। ফের চাকরির সময়েও যদি এই কোটা বহাল থাকে তাহলে সেই সন্তানদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। সচ্ছল, প্রতিষ্ঠিত ঘরের ছেলেমেয়েদের মুক্তিযোদ্ধা পিতামহ/মাতামহ কোটায় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিরও বিপক্ষে আমি।

আমার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবঃ প্রান্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের কোন সন্তান/পৌত্র-দৌহিত্র অভাবের কারণে পড়তে না পারলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, উচ্চ শিক্ষায়তনে ভর্তির সময়ে কোটার সুযোগ পাবে কিন্তু তাদের বিসিএস কোটা থাকবে না। আর যদি ভর্তিপরীক্ষায় তারা কোটা না নেন, তবে বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করলে তাঁদের কোটার আওতায় নেয়া হোক। যে কোন একটা কোটার সুযোগ পাবেন তাঁরা। সেই  কোটা তখন সাকূল্যে ৫%-এর বেশি হবে না।

সব মিলিয়ে দাঁড়াবে তখন নারী (৫%)+ আদিবাসী (৫%)+ প্রতিবন্ধী (২%)+ মুক্তিযোদ্ধা (৫%)= ১৭% কোটা। সেটা গ্রহণযোগ্য। আস্তে আস্তে সে'সব কোটাও তুলে দেয়া হোক। আদিবাসী এবং প্রতিবন্ধী কোটা বহাল থাকবে শুধু তখন, পৃথিবীর যে কোন দেশের মত।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর এবং ছাত্রীদের উপর আক্রমণের নিন্দা জানাই।

ড. কাবেরী গায়েন: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। [ফেসবুক থেকে]



চটগ্রামে এসব কি হচ্ছে? মেয়েরা সাবধানে পথ চলুন!



গতরাত ১০/০৪/২০১৮ তারিখ রাত ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া আমার সাথে ভয়ংকর ঘটনা
লেখাটা যখন লিখছি হাত পা কাপঁছিলো. এতোটাই ভয় পেয়েছি. আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং নিজের উপস্থিত বুদ্ধির জন্য আজ সুস্থ সবল ভাবেই বাসায় আসতে পেরেছি.
আচ্ছা বাংলাদেশটা কি সত্যি বসবাসে অযোগ্য হয়ে গেলো????
মূল ঘটনা : আমার আজ কিছু টেস্ট ছিলো শেভরণে , রাত ৮টার দিকে রিপোর্ট আনতে যাই বাট ওরা জানায় রিপোর্ট নেক্সট শনিবার পাবো. হালকা মেজাজ খারাপ করে চলে আসি।
শেভরণের সামনে থেকে সিএনজি দেখছিলাম বাসায় আসার জন্য, কয়েকটা সিএনজি দেখার পর একটাতে উঠে পড়ি. উঠতেই খেয়াল করি এই সিএনজিটাকে প্রথমে আস্ক করি বাট ও ১৫০টাকা চায় তাই উঠিনি, এটাই আবার ঘুরে এসে ১০০টাকায় রাজি হয়ে যায়.
কয়েক মিনিট পর খেয়াল করি সিএনজির লুকিং গ্লাস নেই, ড্রাইভার নেভি ব্লু ড্রেসেও নেই , একটু বাকাঁ হয়ে বসছে. সুগন্ধা আবাসিকে ঢুকতেই ব্যাটা মুখে মাস্ক পড়ে ফেলে , আমার খটকা লাগে রাতে তো ধুলা বালি নেই যে মাস্ক পড়বে. একটু উকি দিয়ে দেখে আমার শরীর হীম হয়ে আসে লোকটার হাতে ছোট একটা স্প্রে বোতল!
চট করে মাথায় কি আসলো হিজাব দিয়ে নাক চেপে ধরি , আমার বোন ছিলো সাথে ওকেও নাক চেপে ধরার ইশারা দেই. পরে একটু জোরে জোরেই বলি ইস পাচঁলাইশ থানার সামনে দিয়ে গেলে ভাইয়ার সাথে দেখা করে যেতাম. আমার আপু তখনো বুঝে নাই কি হচ্ছে , ও বলে কোন ভাই? পরে ওকে ইশারা দিয়ে চুপ করাই.
সিএনজিটা ষোলশহর দিয়ে বের হয়ে ফরেস্ট দিয়ে যেতে নিলেই আমি জোর গলায় বলি আমার মুরাদপুর কাজ আছে, ঐ দিকে যান. লোকটা গাড়ি না থামিয়ে বলে এদিকেই যাবে. জোর গলায় থামতে বলি, ও থেমে বলে এই দিকে কি প্রবলেম? আমি বলসি এই অন্ধকার নির্জন রাস্তায় যাবো না , ব্যাটা বলে আগে বলেন নাই ক্যান? অন্ধকার রে কি প্রবলেম???
আমি আবার বলি এদিকে যাবো না , পরে ও বলে না গেলে নেমে যান . কোনমতে টাকা দিয়ে নেমে যাই. নামার পর অবশ্য বলি "ভাই রাত বিরাতে মাস্ক পড়তে হয় না , রাতে ধুলা থাকে না" ব্যাটা বুঝে যায় আমি বুঝতে পারছি ওর চালাকি.
ভাবেছিলাম গাড়ির নাম্বারটার ছবি তুলবো বাট পরে ভাবলাম এদের গ্যাং হয়তো আশেপাশে আছে তাই সোজা হাটা ধরি. মুরাদপুর এসে আপু আস্ক করে কাহিনি কি? আপুকে যখন বললাম কাহিনি, আপু তো পুরা "থ".
আপুর মতো যদি আজ আমিও বেখেয়াল থাকতাম  তাইলে কাল সকালের পেপারের কোন এক কোনায় হয়তো সংবাদ হতাম . হাইজ্যাক তো হতামই, আরো কত খারাপ কিছু হতো তা না বললেও বুঝতেছেন সবাই.
এই চক্রের টার্গেট থাকে মেয়েরা. সিএনজিতে ক্লোরোফর্মের স্প্রে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যা করার করতো ওরা. আল্লাহ অশেষ রহমত যে আমাকে সঠিক সময়ে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়েছেন.
অনেকে বলবেন লোকজন ডাকিনি কেন? প্রথমত ভয় পেয়েছি, দ্বিতীয় হয়তো এদের গ্যাং আশেপাশেই ছিলো পরে হিতে বিপরীত হতে পারতো. আমার প্রথম চিন্তা ছিলো আগে বেচেঁ ফিরি. মেয়েরা ভালোই বুঝবেন তখন আমার কি পরিমান ভয় লাগছিলো.
প্লিজ আপুরা যারা রাতের বেলায় জার্নি করেন ব্যাপার গুলো একটু খেয়াল রাখবেন , এই দেশ এই পৃথিবী আর আমাদের বাসযোগ্য নেই রে আপু!

বেড়াতে আসুন সন্দ্বীপে - সাজিব পাটোয়ারী

ও'ভাই চলেন  না, আংগো (আমাদের) সন্দ্বীপ
কেন যাবেন না?
কি নেই এখানে?
আমি বলি  সব প্রাচুর্যে ভরপুর আমাদের সন্দ্বীপ।
জীবনে একবার হলেও ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপ।



সন্দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে চট্টগ্রাম জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ উপজেলা।  অবারিত সবুজ মাঠ, নদীর বুকে জেগে উঠা চর কিংবা সহজ সরল মানুষ এক কথায় এই দ্বীপের সবকিছুই ভালো লাগার মত। এছাড়াও দ্বীপে দেখার মত ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান রয়েছে। সাগর নদী পরিবেষ্টিত এই দ্বীপে ভ্রমণ সারা জীবন মনে রাখার মত।

কখন যাবেন ? কিভাবে যাবেন সন্দ্বীপ? 

সন্দ্বীপ যাওয়ার সবথেকে উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে শীতকাল। যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবধরনের সুবিধা সবথেকে বেশি উত্তম শীতকালে।

চট্টগ্রাম এর অলংকার থেকে সেইফ-লাইন সার্ভিসে ২৫  টাকা ভাড়ায় কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। আবার নিউ মার্কেট থেকে ৭ নাম্বার মেট্রো সার্ভিসে করে ২৭টাকা ভাড়াতে কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। যদি আরও বিলাসিতা নিয়ে যেতে চান, তাহলে কর্নেল হাট থেকে ছোট ছোট কার আছে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে আসার পথে কুমিরা ঘাটে নেমে যাবেন। কুমিরা ঘাটঘর রোড থেকে ১০-২০ (জনপ্রতি ১০টাকা) টাকা ভাড়ায় টমটম কিংবা রিক্সায় করে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরিঘাট ব্রিজ পৌঁছানো যায়।

কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ: কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্যে স্পিড বোট ও ছোট লঞ্চ আছে। স্পিড বোট ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা,লঞ্চের ভাড়া ১০০ টাকা। যদি ভ্যানে ছড়ার অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।এক কিলোমিটারের ব্রিজ পায়ে হেঁটে না গিয়ে ২০ টাকা দিয়ে ভ্যানে ছড়তে পারেন। কুমিরা থেকে গুপ্তছড়া ঘাট (সন্দ্বীপ) যেতে সময় লাগবে ৩০(স্পীড বোটে) মিনিটের মত। আর যদি লঞ্চে যান তাহলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লাগবে। বিশাল জলরাশি পাড়ি দিতে দিতে মনে পড়ে যাবে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া  সেই গানটি,

আমি সাম্পানে বান্ধিবো ঘর
তুমি সাথি হলে
জোয়ার ভাটায় ভাসবো দুজন
ঢেউয়ে রি তালে তালে ।

কল্পনার জগতে ভাসতে ভাসতে  পৌছে যাবেন সেই স্বপ্নের দ্বীপ সন্দ্বীপে ।

নিশ্চয় ভাবছেন, কোথায় থাকবেন? কিভাবে যাবেন..!

যদি হোটেলে থাকতে চান তবে সন্দ্বীপ ঘাট (গুপ্তছড়া ঘাট) থেকে সিএনজি নিয়ে(ভাড়া ২৫০-৩০০) চলে যাবেন টাউন কমপ্লেক্সে। আরও আছে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মোটর সাইকেল, প্রকৃতির বিশুদ্ধ হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে নিতে যেতে পারেন মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে।  এখানে ভালো মানসম্মত হোটেলের ব্যবস্থা আছে। কয়েকটা হোটেলের নাম বলছি

মোল্লা গেস্ট হাউস
ফয়সাল গেস্ট হাউস
গ্রীন বাংলা গেস্ট হাউস
সন্দ্বীপ টাওয়ার গেস্ট হাউস

এসি নন এসির ব্যবস্থা আছে। হোটেল গুলোতে আছে মজাদার সব খাবার । (তাজা সামুদ্রিক মাছ , তাজা সবজী , দেশী হাঁস আর মুরগীর মাংস । সাথে নদীর তরতাজা  ইলিশ মাছ খেতে ভুলবেন না কিন্তু!

আর ক্যাম্পিং করার জন্যে যেতে পারেন কমপ্লেক্স থেকে সোজা সন্দ্বীপের পশ্চিম পাড়ে (রহমতপুর) নদী ঘেঁষে।  ক্যাম্প করে থাকার জন্যে সবচেয়ে ভালো পরিবেশ।

এবার আসি কোথায় ঘুরবেন? কি খাবেন?? 

অবাক হওয়ার কিছুই নেই বাংলার প্রখ্যাত কবি আব্দুল হাকিমের জন্মভূমিতে ! দ্বীপের প্রত্যেকটি জায়গা দেখার মতন । ফসল ভরা মাঠ সবুজ প্রকৃতি, হাট ,বাজার সব কিছু । দ্বীপের উত্তর থেকে দক্ষিণের সব প্রান্ত ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে ।  দ্বীপের বিখ্যাত কিছু জিনিসের নামও  প্রাপ্তিস্থান তুলে ধরছি।

শিবের হাট ও বিখ্যাত বিনয় সাহা এর মিষ্টান্ন:

সন্দ্বীপ আসছেন, অথচ বিশ্বখ্যাত সন্দ্বীপের বিখ্যাত জিনিস টা  খাবেন না! তা কিভাবে হয়! খাটি গরুর দুধের  সর দিয়ে তুলতুলে নরম, দুধের রসে চপচপ করা ধপধপে সাদা মিষ্টি খেতে কার না মনে চাইবে?
এসব শুনে  এতক্ষণে নিশ্চয়  আপনার জিহ্বাই জল চলে আসছে!

এটা খেতে আপানকে আসতে হবে দক্ষিণ সন্দ্বীপের শিবের হাটে, অবস্থিত বিনয় সাহার দোকানে।
ছোটবড় দুই সাইজের মিষ্টি পাওয়া যায়। দামও সস্তা( ১পিস) ছোট টা ১২,বড় টা-২০ টাকা দিয়ে  খেতে পারবেন। আমি নিশ্চিত আপনি একটা মুখে দিয়ে শুরু করাটা মনে থাকবে কিন্তু  শেষ  করতে মন থাকবেনা।আজীবন এই মিষ্টির স্বাদ মনে থাকবে আপনার। আপনি খাবেন আর চিন্তা করবেন কি খাচ্ছি আমি?? এই মিষ্টির খ্যাতি রয়েছে ইউরোপ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে।

সন্দ্বীপের ডাব:
সন্দ্বীপের ডাব এক কথায় অনন্য অসাধারণ, সুস্বাদু সন্দ্বীপের ডাবের আছে জগত খ্যাতি । আপনি হাটে - বাজারে সবখানে ডাব পাবেন। তবে খাবেন যেহেতু একটু মজা নিয়ে খান।এই মজাটা নিতে আপনাকে যেতে হবে ইসলাম সাহেবের খামার বাড়িতে।সেনের হাট -এনাম নাহারের মাঝামাঝিতে অবস্থিত।

খামার বাড়িতে গিয়েই দেখতে পাবেন পুকুরের পাড়ে  ছোটছোট অসংখ্য গাছে  আছে ডাবের সমারোহ। গাছ থেকে ডাব পেড়ে খোলা নীল  আকাশের নিচে, পুকুরে ভাসতে থাকা ছোটছোট ডিঙি নৌকাতে বসে  ঘুরেঘুরে  ডাব খাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম। আপনি ভাবনার জগতে হারিয়ে যাবেন, ভাবতে থাকবেন আপনার প্রিয়তমার কথা আহা ভাবতেই কেমন আনন্দে শরীর নেচে উঠছে।

সন্দ্বীপ আসছেন অথচ  পুরো সন্দ্বীপ আপনার পদচারণ হবেনা, ঘুরতে যাবেননা! এ'কেমন কথা!
সবুজের সমারোহ বেষ্টিত সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপের প্রত্যেকটা জায়গা অসাধারণ।প্রথমে চলে যেতে পারেন  সম্পূর্ণ পাকা প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে সোজা  সন্দ্বীপের অলংকার  সেই ” সবুজ চরে ”।

ধবধবে সাদা সাদা বকের সারি দেখলে মনে হবে, এটা কোন সাইবেরিয়ায় আসলাম । রয়েছে অতিথি পাখীদের কল কাকলি। সবুজ গাছগাছালির নিচে শুয়ে বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস  নিতে নিতে জলের গানের বিখ্যাত সেই গানটি গাইতে মন চাইবে নিশ্চিত বৃক্ষতলে শুয়ে,তোমার দুঃখ ছুঁয়ে। ঘুম আসেনা, ঘুম স্বার্থপর

এবার ঘুরতে ঘুরতে চলে যেতে পারেন বিশাল সন্দ্বীপ এর সি বিচে, বিশাল জলরাশি, বিশাল ঢেউয়ের গর্জন এর সাথে টকটকে লাল সূর্য ডুবার অসাধারণ দৃশ্যপট।এসব দেখতে দেখতে  তখন আপনার প্রাণ খুলে গায়তে ইচ্ছে হবে, ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া.....

চলে যেতে পারেন সন্দ্বীপের সর্ব দক্ষিণের সেই কালির চরে ,
যেখানে শুধু সবুজ ফসল আর রুপালী ধান এর হাতছানি এবং হাজার হাজার গরু ছাগল আর মহিষের বাতান । ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ সন্দ্বীপে অবস্থিত সন্দ্বীপ দারুলউলুম মাদ্রাসা থেকে।

চলে যেতে পারেন  মুছাপুর গ্রামের সেই বিখ্যাত দীঘিতে। যেটি আবিষ্কৃত রাতারাতি অনেকটা  রূপ কথার কাহিনীর মতো। দেখে আসতেই পারেন বিশাল বিখ্যাত এই দিঘি টা।  দেখেই আসতে পারেন  ভারতবর্ষের কাকাবাবু খ্যাত কমরেড মোজাফফর আহমেদ এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে।

খেজুরের রস:
সারাদিনের ঘুরাফিরা শেষ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে  বিশুদ্ধতায় ভরপুর মজাদার খেজুররস  পেয়ে না  খাওয়াটা বোকামি হবে। আশেপাশেই খোঁজ করলেই পাবেন। গাছ থেকে সদ্য নামানো রসের দিয়ে  গভীর রাতে দলবল নিয়ে সাগর পাড়ে ইটের চুলায় রসের ফিন্নি  রান্না করে খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম। প্রতিটা মুহুর্ত আপনাকে অন্যরকম এক অনুভূতি দিবে,যা কল্পনা করতে পারবেননা।খেজুরের রসের ফিন্নি/পায়েস স্বাদ ভুলবেন না কখনো নিশ্চিত। সকালে সন্দ্বীপের প্রিয় ঘন খেজুরের মিঠাই এর সাথে কোড়ানো নারিকেল আর চিতল পিঠা খেয়ে আসবেন।আমি নিশ্চিত খাবেন একবার মনে থাকবে মরণের আগপর্যন্ত।

দেরি না করে এসে পড়ুন, সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপ

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনে চারজনের যাবজ্জীবন

সাত বছর আগে এক ব্যবসায়ীকে খুনের মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুর আলম ভুঁইয়া এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মো. সাহাবউদ্দিন, মো. রাশেদ, এনামুল হক এনাম এবং মেহরাজ ওরফে মিরাজ।

২০১১ সালের ১ নভেম্বর রাঙামাটি থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন পটিয়া উপজেলার কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ (২৮)।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মো. নাছির উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের চারজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছেন।

“আসামিদের মধ্যে সাহাবউদ্দিন ও রাশেদ জামিনে নিয়ে পলাতক। অন্য দুই আসামি এনাম ও মিরাজকে রায় ঘোষণার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর ঈদ উপলক্ষে রাঙামাটি থেকে পটিয়ার বাড়িতে ফিরছিলেন মো. ইউসুফ। তিনি রাঙামাটিতে ব্যবসা করতেন।

নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় বাস থেকে নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন ইউসুফ। ওই অটোরিকশার চালক ছিলেন আসামি মিরাজ।

কিছু দূর যাওয়ার পর যাত্রীবেশে ওই অটোরিকশায় ওঠেন সাহাবউদ্দিন, রাশেদ ও এনাম। অটোরিকশাটি কালুরঘাট সেতু পার হওয়ার পরই ইউসুফের দুই পাশে বসা যাত্রীরা তাকে জাপটে ধরে।

সাহাবউদ্দিন, রাশেদ ও এনাম তাকে কিল-ঘুষি মেরে এবং একটি শার্ট গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে তার কাছে থাকা মোবাইল, টাকা এবং অন্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতলা বাহার সংলগ্ন এলাকায় ইউসুফের লাশ রাস্তায় ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের ভাই মো. ফারুক একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৮ অগাস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলার আসামি মিরাজ ও এনাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।

মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় দেয়।

চট্টগ্রামে সালাম দিয়ে রিকশা থামিয়ে ছিনতাই

নগরীতে রিকশা নিয়ে ঘুরে লক্ষ্য ঠিক করার পর পরিচিতজনের মত সালাম, এরপর রিকশা দিয়ে গতিরোধ, সবশেষে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া- এভাবেই ছিনতাই করে যাচ্ছে একটি চক্র। 

দুই দিন আগে এই চক্রের একজনকে গ্রেপ্তারের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. ইদ্রিস (৩৮), বদি আলম (৩০), আব্দুল হামিদ (২১), জামাল হোসেন (৪০) এবং বাইতুল মামুন ওরফে মামুন (২৬)।

এদের মধ্যে বদি আলম ও আব্দুল হামিদ রিকশাচালক। এদের কাছে থাকা তিনটি রিকশাও আটক করা হয়েছে।

চক্রের দুই সদস্য ইউনুছ ও মফিজ এখনো পলাতক।

এর আগে ৩১ মার্চ রাতে লালদিয়ার চর থেকে গ্রেপ্তার হয় এই চক্রের সদস্য মো. শফিক।  

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই চক্রটি গত সাত-আট বছরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

“রিকশায় চড়ে বা আগে থেকে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিকে বহনকারী রিকশা কাছাকাছি আসলে তারা পরিচিতজনের মত সালাম দেয়।

“কখনো বন্ধু আবার কখনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা পরিচয়ে সালাম দিয়ে রিকশা থামায় তারা। এরপর পূর্ব পরিচিতের মত কথা বলে। এই ফাঁকে দলের অন্য সদস্যরা ঘিরে ফেলে ওই রিকশা আরোহীকে। এসময় রিকশার গতি কমলেই তারা অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই করে।”

‘দোস্ত কেমন আছিস, রিকশা থামা’

গত ২৫ মার্চ রাতে নগরীর সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোডে মাহতাব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় মামলার পরই মাঠে নামে পুলিশ।

৩১ মার্চ শফিককে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় তারা নগরীর সাগরিকা এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।

“এরপর তারা আইস ফ্যাক্টরি রোডে যায়। সেখানে দুইবার রিকশা নিয়ে চক্কর দেয়। রাত ১০টার দিকে তৃতীয়বার চক্কর দেওয়ার সময় তারা মাহতাব উদ্দিনকে টার্গেট করে।”

তিনি বলেন, মাহতাবকে বহনকারী রিকশাটি অনুসরণের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারী চক্রের একটি রিকশা পাশাপাশি হয়। এসময় ওই রিকশা থেকে ইউনুছ সালাম দিয়ে মাহতাবকে বলে- ‘দোস্ত কেমন আছিস, রিকশা থামা’।

“এরপর সামনে এবং পেছনে রিকশা দিয়ে মাহতাবকে বহনকারী রিকশাটির ঘিরে ফেলে ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে ইউনুছ নেমে মাহতাবের সাথে হ্যান্ডশেক করে। এসময় তার ইশারা পেয়ে শফিক ছুরি হাতে মাহতাবের রিকশায় তার পাশে উঠে বসে।”

পুলিশ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ইউনুছ কোমরে রাখা একটি খাতা দেখিয়ে বলে- ‘কী আছে দে, নয়ত গুলি করে দেব’।

ছিনিয়ে নেওয়া ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৯ হাজার পাঁচশ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ইদ্রিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে ছিনতাই করা মোবাইল ফোনটি জামাল হোসেনের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্য মোবাইলটি পাওয়া যায় শফিকের কাছ থেকে।

ছাত্র পরিচয়েও ছিনতাইয়ে তারা

গ্রেপ্তার চক্রটি গত ৪ জানুয়ারি নগরীর ডিসি হিলের সামনে থেকে রিকশা আরোহী এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাত হাজার টাকা, সোনার আংটি ও মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

পাশাপাশি গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের সামনে থেকে এক রিকশা আরোহীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার কথাও জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ৪ জানুয়ারি ডিসি হিলের সামনে সিটি কলেজের শিক্ষক কিরীটি দত্ত ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছাত্র পরিচয় দিয়ে এই চক্রটি তার মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।

২০ ফেব্রুয়ারি ছিনতাইয়ের শিকার জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এম এ নাসের জানান, ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে নগর ভবনের সামনে তার রিকশার গতিরোধ করে ছিনতাই করা হয়।

চট্টগ্রামে বাংলালিংকের ফোর-জি চালু

ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফোর-জি সেবা চালু করেছে।

চট্টগ্রাম শহরের দ্য পেনিনসুলা চিটাগং-এ মঙ্গলবার বাংলালিংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, “উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রদান করে ফোর-জি বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিসের ব্যবহার সহজ করবে এবং মানুষকে ডিজিটাল জীবনযাত্রার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই সেবা চালু করার জন্য আমি বাংলালিংককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

বাংলালিংক-এর সিইও এরিক অস বলেন, “দেশের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নতমানের ডিজিটাল সেবার দাবিদার। আমরা বিশ্বাস করি, ফোর-জি চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কাযর্ক্রমের ডিজিটালকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় গুণগত পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।”