বেড়াতে আসুন সন্দ্বীপে - সাজিব পাটোয়ারী

ও'ভাই চলেন  না, আংগো (আমাদের) সন্দ্বীপ
কেন যাবেন না?
কি নেই এখানে?
আমি বলি  সব প্রাচুর্যে ভরপুর আমাদের সন্দ্বীপ।
জীবনে একবার হলেও ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপ।



সন্দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে চট্টগ্রাম জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ উপজেলা।  অবারিত সবুজ মাঠ, নদীর বুকে জেগে উঠা চর কিংবা সহজ সরল মানুষ এক কথায় এই দ্বীপের সবকিছুই ভালো লাগার মত। এছাড়াও দ্বীপে দেখার মত ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থান রয়েছে। সাগর নদী পরিবেষ্টিত এই দ্বীপে ভ্রমণ সারা জীবন মনে রাখার মত।

কখন যাবেন ? কিভাবে যাবেন সন্দ্বীপ? 

সন্দ্বীপ যাওয়ার সবথেকে উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে শীতকাল। যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবধরনের সুবিধা সবথেকে বেশি উত্তম শীতকালে।

চট্টগ্রাম এর অলংকার থেকে সেইফ-লাইন সার্ভিসে ২৫  টাকা ভাড়ায় কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। আবার নিউ মার্কেট থেকে ৭ নাম্বার মেট্রো সার্ভিসে করে ২৭টাকা ভাড়াতে কুমিরা ঘাটঘর রোড যাওয়া যায়। যদি আরও বিলাসিতা নিয়ে যেতে চান, তাহলে কর্নেল হাট থেকে ছোট ছোট কার আছে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে আসার পথে কুমিরা ঘাটে নেমে যাবেন। কুমিরা ঘাটঘর রোড থেকে ১০-২০ (জনপ্রতি ১০টাকা) টাকা ভাড়ায় টমটম কিংবা রিক্সায় করে কুমিরা-সন্দ্বীপ ফেরিঘাট ব্রিজ পৌঁছানো যায়।

কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ: কুমিরা সন্দ্বীপ ঘাট থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার জন্যে স্পিড বোট ও ছোট লঞ্চ আছে। স্পিড বোট ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা,লঞ্চের ভাড়া ১০০ টাকা। যদি ভ্যানে ছড়ার অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।এক কিলোমিটারের ব্রিজ পায়ে হেঁটে না গিয়ে ২০ টাকা দিয়ে ভ্যানে ছড়তে পারেন। কুমিরা থেকে গুপ্তছড়া ঘাট (সন্দ্বীপ) যেতে সময় লাগবে ৩০(স্পীড বোটে) মিনিটের মত। আর যদি লঞ্চে যান তাহলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লাগবে। বিশাল জলরাশি পাড়ি দিতে দিতে মনে পড়ে যাবে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া  সেই গানটি,

আমি সাম্পানে বান্ধিবো ঘর
তুমি সাথি হলে
জোয়ার ভাটায় ভাসবো দুজন
ঢেউয়ে রি তালে তালে ।

কল্পনার জগতে ভাসতে ভাসতে  পৌছে যাবেন সেই স্বপ্নের দ্বীপ সন্দ্বীপে ।

নিশ্চয় ভাবছেন, কোথায় থাকবেন? কিভাবে যাবেন..!

যদি হোটেলে থাকতে চান তবে সন্দ্বীপ ঘাট (গুপ্তছড়া ঘাট) থেকে সিএনজি নিয়ে(ভাড়া ২৫০-৩০০) চলে যাবেন টাউন কমপ্লেক্সে। আরও আছে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মোটর সাইকেল, প্রকৃতির বিশুদ্ধ হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে নিতে যেতে পারেন মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে।  এখানে ভালো মানসম্মত হোটেলের ব্যবস্থা আছে। কয়েকটা হোটেলের নাম বলছি

মোল্লা গেস্ট হাউস
ফয়সাল গেস্ট হাউস
গ্রীন বাংলা গেস্ট হাউস
সন্দ্বীপ টাওয়ার গেস্ট হাউস

এসি নন এসির ব্যবস্থা আছে। হোটেল গুলোতে আছে মজাদার সব খাবার । (তাজা সামুদ্রিক মাছ , তাজা সবজী , দেশী হাঁস আর মুরগীর মাংস । সাথে নদীর তরতাজা  ইলিশ মাছ খেতে ভুলবেন না কিন্তু!

আর ক্যাম্পিং করার জন্যে যেতে পারেন কমপ্লেক্স থেকে সোজা সন্দ্বীপের পশ্চিম পাড়ে (রহমতপুর) নদী ঘেঁষে।  ক্যাম্প করে থাকার জন্যে সবচেয়ে ভালো পরিবেশ।

এবার আসি কোথায় ঘুরবেন? কি খাবেন?? 

অবাক হওয়ার কিছুই নেই বাংলার প্রখ্যাত কবি আব্দুল হাকিমের জন্মভূমিতে ! দ্বীপের প্রত্যেকটি জায়গা দেখার মতন । ফসল ভরা মাঠ সবুজ প্রকৃতি, হাট ,বাজার সব কিছু । দ্বীপের উত্তর থেকে দক্ষিণের সব প্রান্ত ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে ।  দ্বীপের বিখ্যাত কিছু জিনিসের নামও  প্রাপ্তিস্থান তুলে ধরছি।

শিবের হাট ও বিখ্যাত বিনয় সাহা এর মিষ্টান্ন:

সন্দ্বীপ আসছেন, অথচ বিশ্বখ্যাত সন্দ্বীপের বিখ্যাত জিনিস টা  খাবেন না! তা কিভাবে হয়! খাটি গরুর দুধের  সর দিয়ে তুলতুলে নরম, দুধের রসে চপচপ করা ধপধপে সাদা মিষ্টি খেতে কার না মনে চাইবে?
এসব শুনে  এতক্ষণে নিশ্চয়  আপনার জিহ্বাই জল চলে আসছে!

এটা খেতে আপানকে আসতে হবে দক্ষিণ সন্দ্বীপের শিবের হাটে, অবস্থিত বিনয় সাহার দোকানে।
ছোটবড় দুই সাইজের মিষ্টি পাওয়া যায়। দামও সস্তা( ১পিস) ছোট টা ১২,বড় টা-২০ টাকা দিয়ে  খেতে পারবেন। আমি নিশ্চিত আপনি একটা মুখে দিয়ে শুরু করাটা মনে থাকবে কিন্তু  শেষ  করতে মন থাকবেনা।আজীবন এই মিষ্টির স্বাদ মনে থাকবে আপনার। আপনি খাবেন আর চিন্তা করবেন কি খাচ্ছি আমি?? এই মিষ্টির খ্যাতি রয়েছে ইউরোপ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে।

সন্দ্বীপের ডাব:
সন্দ্বীপের ডাব এক কথায় অনন্য অসাধারণ, সুস্বাদু সন্দ্বীপের ডাবের আছে জগত খ্যাতি । আপনি হাটে - বাজারে সবখানে ডাব পাবেন। তবে খাবেন যেহেতু একটু মজা নিয়ে খান।এই মজাটা নিতে আপনাকে যেতে হবে ইসলাম সাহেবের খামার বাড়িতে।সেনের হাট -এনাম নাহারের মাঝামাঝিতে অবস্থিত।

খামার বাড়িতে গিয়েই দেখতে পাবেন পুকুরের পাড়ে  ছোটছোট অসংখ্য গাছে  আছে ডাবের সমারোহ। গাছ থেকে ডাব পেড়ে খোলা নীল  আকাশের নিচে, পুকুরে ভাসতে থাকা ছোটছোট ডিঙি নৌকাতে বসে  ঘুরেঘুরে  ডাব খাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম। আপনি ভাবনার জগতে হারিয়ে যাবেন, ভাবতে থাকবেন আপনার প্রিয়তমার কথা আহা ভাবতেই কেমন আনন্দে শরীর নেচে উঠছে।

সন্দ্বীপ আসছেন অথচ  পুরো সন্দ্বীপ আপনার পদচারণ হবেনা, ঘুরতে যাবেননা! এ'কেমন কথা!
সবুজের সমারোহ বেষ্টিত সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপের প্রত্যেকটা জায়গা অসাধারণ।প্রথমে চলে যেতে পারেন  সম্পূর্ণ পাকা প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে সোজা  সন্দ্বীপের অলংকার  সেই ” সবুজ চরে ”।

ধবধবে সাদা সাদা বকের সারি দেখলে মনে হবে, এটা কোন সাইবেরিয়ায় আসলাম । রয়েছে অতিথি পাখীদের কল কাকলি। সবুজ গাছগাছালির নিচে শুয়ে বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস  নিতে নিতে জলের গানের বিখ্যাত সেই গানটি গাইতে মন চাইবে নিশ্চিত বৃক্ষতলে শুয়ে,তোমার দুঃখ ছুঁয়ে। ঘুম আসেনা, ঘুম স্বার্থপর

এবার ঘুরতে ঘুরতে চলে যেতে পারেন বিশাল সন্দ্বীপ এর সি বিচে, বিশাল জলরাশি, বিশাল ঢেউয়ের গর্জন এর সাথে টকটকে লাল সূর্য ডুবার অসাধারণ দৃশ্যপট।এসব দেখতে দেখতে  তখন আপনার প্রাণ খুলে গায়তে ইচ্ছে হবে, ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া.....

চলে যেতে পারেন সন্দ্বীপের সর্ব দক্ষিণের সেই কালির চরে ,
যেখানে শুধু সবুজ ফসল আর রুপালী ধান এর হাতছানি এবং হাজার হাজার গরু ছাগল আর মহিষের বাতান । ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ সন্দ্বীপে অবস্থিত সন্দ্বীপ দারুলউলুম মাদ্রাসা থেকে।

চলে যেতে পারেন  মুছাপুর গ্রামের সেই বিখ্যাত দীঘিতে। যেটি আবিষ্কৃত রাতারাতি অনেকটা  রূপ কথার কাহিনীর মতো। দেখে আসতেই পারেন বিশাল বিখ্যাত এই দিঘি টা।  দেখেই আসতে পারেন  ভারতবর্ষের কাকাবাবু খ্যাত কমরেড মোজাফফর আহমেদ এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে।

খেজুরের রস:
সারাদিনের ঘুরাফিরা শেষ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে  বিশুদ্ধতায় ভরপুর মজাদার খেজুররস  পেয়ে না  খাওয়াটা বোকামি হবে। আশেপাশেই খোঁজ করলেই পাবেন। গাছ থেকে সদ্য নামানো রসের দিয়ে  গভীর রাতে দলবল নিয়ে সাগর পাড়ে ইটের চুলায় রসের ফিন্নি  রান্না করে খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম। প্রতিটা মুহুর্ত আপনাকে অন্যরকম এক অনুভূতি দিবে,যা কল্পনা করতে পারবেননা।খেজুরের রসের ফিন্নি/পায়েস স্বাদ ভুলবেন না কখনো নিশ্চিত। সকালে সন্দ্বীপের প্রিয় ঘন খেজুরের মিঠাই এর সাথে কোড়ানো নারিকেল আর চিতল পিঠা খেয়ে আসবেন।আমি নিশ্চিত খাবেন একবার মনে থাকবে মরণের আগপর্যন্ত।

দেরি না করে এসে পড়ুন, সৌন্দর্যের লীলাভূমি সন্দ্বীপ

চিটাগং এন্ড সাম টকিংস - রাকিব আদনান চৌধুরী



চিটাইংগা, নিজেদের এই পরিচয়টাতেই যথেষ্ট গর্ববোধ করি আমরা। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, পুরো বাংলাদেশের সব এলাকার মাঝে এই চট্টগ্রামের মানুষদেরই অাঞ্চলিকতা কোন কোন ক্ষেত্রে সামগ্রিক দেশাত্মবোধকেও ছাপিয়ে যায়। 

যাই হোক, চট্টগ্রামের মানুষদের বিয়ের বেলায় হ্যাপাও কম পোহাতে হয় না। কিছু কিছু রিতীনিতীতে আমি নিজেও বেশ বিরক্ত। তবে দেখা যাক চট্টগ্রামের একটা ছেলের বিয়ে থেকে শুরু করে বিয়ে পরবর্তী সময়ে কি কি ঘটনা ঘটে। 

  • পাত্রী দেখার শুরুতেই (হোক সেটা প্রেমঘটিত) দেখা হয় পাত্রী পক্ষ "ভইংগা" কিনা। চট্টগ্রামের মানুষ যতই উচ্চশিক্ষীত কিংবা হাই সোসাইটির হোক না কেনো তারা চট্টগ্রামের বাইরে আত্মীয়তা করতে চায় না। আর চট্টগ্রামের বাইরের মানুষদের (বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরের) ঐ বিশেষ শব্দে ডাকা হয়। আসলে এর মূল কারন হলো বংশপরিচয় এবং বংশপরম্পরা। নিজেদের মাঝে আত্মীয়তায় এতো বেশী আষ্টেপিষ্টে গেছে যে এরা চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে পাত্রী কিংবা পাত্রপক্ষ সম্পর্কে সংবাদ কালেকশান করার ঝামেলা ইনারা পোহাতে চান না। 
  • এরপর আসে পাত্রীপক্ষ "রোয়াই" কিনা। মানে রোহীংগা মুসলিম কিনা। এটার ক্ষেত্রে অনেকে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করে এখন। 
  • বিয়ের ডেট ঠিক হলো। এবার আসে সবচেয়ে বিরক্তিকর প্রথাটা। নাম দেয়া হয়েছে " দেয়া - নেয়া "। পাত্রপক্ষ পাত্রীপক্ষকে এবং Vice Versa এই কাহিনী ঘটে থাকে। পাত্রীপক্ষকেই শোষণ করা হয় মূলত। একটা লিস্ট দেই যে কি কি দিতে হয় -  বিয়ের সময় ফার্নিচার, শ্বশুরবাড়ির সবাইকে জামাকাপড় (শ্বশুরবাড়ির মানে লিস্টটা লতা পাতা পর্যন্ত) -গ্রীষ্মকালে ট্রাকভর্তি না হলেও নিদেনপক্ষে সিএনজি ভর্তি ফলমূল। - রোজার ঈদে আবার জামাকাপড়। - কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল। - রোজার সময় ইফতারী। এরকম প্রতিটা ফাংশানে কিছুনা কিছু দেয়া চাই ই চাই। এগুলার কোনটাই আবার খুঁজতে হয় না। সানন্দে শুরু করা কিছু মানুষের বিলাসীতা এখন চট্টগ্রামের সবার জন্য ফরজ হয়ে গেছে। তেতো সত্য হলো বাইরের লোকেরা এগুলা দিতে পারে না বলেই তাদের সাথে নো অাত্মীয়তা।  সো বাইরের জেলার যাদের বিভিন্ন এপস এ ম্যারেজ প্লেস চট্টগ্রাম আসছে প্রিপারেশান নেয়া শুরু করে দেন!  কিন্তু বছরের পর বছর এসব রিতীনিতী মেনেই আশ্চর্যজনক ভাবেই চট্টলা ঠিকে আছে। আজো কুঁড়েঘর থেকে প্রাসাদের বাসিন্দা সব চিটাইংগাই এসব রিতী মানে কিংবা মানতে বাধ্য।

 এবার আসি এতো কিছুর পরও কেনো টিকে আছে চট্টলার পরিবারগুলো 
  • বিশ্বাস করুন আর নাই করুন বাংলাদেশের সবচেয়ে সুখী মানুষগুলোর দেখা এখানেই পাবেন। পাবেন সবচেয়ে উদার মানুষগুলার দেখা। এখানে এখনো টিকে আছে সমাজ ব্যবস্থা। সমাজের সবগুলো মানুষ মিলেই মেয়েদের বিয়ে দেয়, বিশেষ করে গ্রামে । তাই ভারটাও অতবেশী পড়ে না অক্ষমদের ক্ষেত্রে। 
  • সবচেয়ে ভোজনরসিক মানুষগুলো পাবেন এখানে। খেতে আর খাওয়াতে ভালোবাসে এখানকার মানুষেরা। যে চট্টগ্রামে এসে মেজবান খেয়ে যায় নাই, তার লাইফ বৃথা।
  •  সংগ্রামের সাথে নিত্য পরিচয় এখানকার মানুষদের। "সিনা দি টেকাই আঁরা জর তুয়ান "! সব কিছুর মাঝেও একগাল হেসে জিজ্ঞেস করবে - " বদ্দা, কেন আছন? " 
  •  আর এতো দেয়া নেয়া প্রথার কারনেই বোধহয় আত্মীয়তার বন্ধনটা এতো প্রবল। এই প্রথার কারনে বছরে দু তিনবার করে হলেও সব নিকটাত্মীয়র কাছে ঘুরা হয়, খোঁজখবর নেয়া হয়। যেটাতে মোটামুটি পুরো বাংলাদেশ পিছিয়ে। আর একারনেই সবচেয়ে বেশী একান্নবর্তী পরিবার টিকে আছে এই চট্টলার বুকে (আমাদের টাও)।
  • খুব আবেগী এখানকার মানুষগুলা। আত্মীয়ের সম্পর্ক থাকা লাগে না, লাগে না নাঁড়ীর সম্পর্ক, শুধু একবার বিপদে পড়ে দেখেন, হয়তো অনেক ক্ষেত্রে আপনার আত্মীয়দের আগে এগিয়ে আসবে এই মানুষগুলাই। কেও যদি না আসে তাহলে ধরে নেন সে সংকারীয়ত চিটাইংগা। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে আপনাকে সাহায্য করবার এই "চিটাইংগা" রা। 
  •  যাই হোক, এট লাস্ট হেভ টু সে, প্রাউড টু বি এ চিটাইংগা!  অনেক পুরাতন একটা লেখা। ২০১৩ এর দিকে লিখেছিলাম। আফসোস চিটাইংগা শব্দটা কেঁড়ে নেয়া হলো। 
মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকলে বলতো - " কিরমিয়ে গুঁতারদে না ওডো? চিটাং এর নাম চিটাং ই থাইবু! "

দেশের শান্তি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন : প্রধানমন্ত্রী



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শান্তি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য নৌকায় ভোট চেয়ে বলেছেন, ‘নৌকা জনগণের প্রতীক’। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণানুযায়ী আগামী ডিসেম্বরেই হবে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে উন্নয়নের ধারবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’
শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণকালে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান- নৌকা মার্কা আপনাদের মার্কা, এই নৌকা মার্কা সবসময় মানুষকে উদ্ধার করে। নূহ নবীর নৌকা মানবজাতি এবং পশুপাখি সব রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের উন্নয়নের ধারবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যাকান্ড, খুন-খারাবি নয়, দেশের মানুষ যাতে শান্তি পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম বলেই আজকে সে উন্নয়নের সুফল আপনারা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেই ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে চাই। আর ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। এ জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, যারা জাতির পিতার খুনীদেরকে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসায়, যারা যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী, তাদের হাতে যারা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দেয় তারা এদেশের কোন উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, তারা অতীতে কোন উন্নয়ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর অন্যান্য প্রাক নির্বাচনী জনসভার মত নৌকায় ভোট প্রদানের জন্য উপস্থিত জনগণের দুই হাত তুলে ওয়াদা চাইলে জনগণ দুই হাত তুলে এবং চিৎকার করে ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করে।
চাঁদপুর বাসীর উন্নয়নে তাঁদের কোন কিছু দাবি করা লাগবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখানে আড়াইশ’ বেডের একটি হাসপাতাল করে দিয়েছি এবং একটি মেডিকেল কলেজও করে দেব। আর চাঁদপুরের হাইমচরে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেব, পর্যটনের কেন্দ্র এখানে গড়ে তোলা হবে, নৌ ভ্রমণের জন্য বন্দোবস্ত সেখানে থাকবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপুমনি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম জনসভায় বক্তৃতা করেন। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও জনসভায় বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাঁদপুরের জন্য স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজন, সব কিছুর উন্নয়নেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আজ ৪৭ টি উন্নয়ন প্রকল্পে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থপন করা হয়েছে।
চাঁদপুরের উন্নয়নে তাঁর সরকার কিছুই বাদ রাখেনি, বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা এ সময় তাঁর সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান এবং ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর বৃত্তির টাকা মায়েদের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া এবং এজন্য ২০ লাখ মা’কে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া, সারাদেশে ৫২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টার করে উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ, আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের নিদেন পক্ষে একটি টিনের ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগসহ পোষ্ট অফিসগুলো ডিজিটাইজেশনের তথ্য তুলে ধরেন।
বেকারদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অর্থায়ন করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক করা, শ্রমিকদেরকে যেন জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে না হয়, সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করা, বর্গাচাষীদেরকে বিনা জামানতে ঋণ দেয়া, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দেয়া, সব হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মহিলা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা এবং দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালুর তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খন্ড চিত্র তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এই আওয়ামী লীগকে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, আমরা আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আর নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এই নৌকায় ভোট দিয়েই এদেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। আর এই নৌকাই যখন ক্ষমতায় আসে তখনই উন্নয়ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস করেছি। এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করছি, জেলায় জেলায় আইটি পার্ক করে দিচ্ছি।’
মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনিদের চাকরির জন্য কোটার সুযোগ রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এই মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করে আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অনেকে জীবন দিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন, তাদের সম্মান করা। তাদের পরিবারকে সম্মান করা-এটা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করেছি, তাই সম্মান করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাস করি। আর সে উন্নয়ন গ্রাম পর্যায় থেকে, সে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, এই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। কিন্তুু আপনারা জানেন এই বিএনপি-জামাত যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার করে, লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, মানি লন্ডারিং করে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে, জনগণের ঘর-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই কেড়ে নেয়, লুটে খাওয়াটাই ওদের চরিত্র।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা- ওরা এগুলোতেই পারদর্শী। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা-এটাই তাদের আন্দোলন। আপনারা দেখেছেন ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের মত মানুষকে আগুনে পুড়িয়েছে, ৫শ’ মানুষ মারা গেছে, প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার গাড়ি, বাস ট্রাক, লঞ্চ, রেল, সিএনজি-সব আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। আর আওয়ামী গড়ে তোলে, উন্নয়ন সাধন করে কারণ, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এই আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তুলে দেশের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম প্রত্যেকটা ওয়াদা আমরা রক্ষা করেছি। পাশাপাশি তার থেকে বেশি কাজ করেছি। আজকে আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। এই চাঁদপুরে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে এবং আরও নতুন একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্রও হচ্ছে। যেখানে বিদ্যুতের লাইন নাই সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুতের লাইন দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।
ইনশাল্লাহ কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না, প্রতি ঘরে আমরা আলো জ্বালবো, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল তারপরও জনগণ ভোট দিয়েছে, আপনারা ভোট দিয়েছেন, চাঁদপুরবাসী ভোট দিয়ে প্রত্যেকটা সিটে নৌকা মার্কাকে জয়যুক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, ভিক্ষুকের জাতির কোন ইজ্জত থাকে না। আমরা সব জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করবো। বাংলাদেশ হবে ভিক্ষুকমুক্ত। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু করে চলবো, কারোর কাছে হাত পাতবো না।
জনসভায় খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা টাকা মেরে দিয়েছে। এতিমের হক মেরে না খাওয়ার জন্য যেখানে পবিত্র কোরআন শরীফে পর্যন্ত নিষেধ আছে। তার জন্য আবার কিসের আন্দোলন।’
তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগে বিদেশে মামলা হয়েছে। আমরা সে টাকা সেখান থেকে ফেরত এনেছি।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় তাঁর সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্সনীতির পুনরুল্লেখ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে পুত্র ও পোষ্যদের দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং ধর্মগুরুদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সন্তান কোথায় যায়, কেন যায় সে বিষয়ে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আসবে ক্যাঙ্গারু, উট পাখি


বাঘ, সিংহ আর জেব্রার পর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এবার যোগ হলো উট পাখি। রোববার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দুটি উট পাখি আনা হয় ঢাকা থেকে। চিড়িখানায় পশুপাখি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফেলকন ট্রেডার্স ‘উপহার’ হিসেবে আফ্রিকান প্রজাতির এই উট পাখি দুটি দিয়েছে।

এছাড়া আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে আসতে পারে ক্যাঙ্গারু। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রুহুল আমিন  বলেন, “প্রায় ছয় মাস বয়সী উট পাখির বাচ্চা দুটো সকালে ঢাকা থেকে এসে পৌঁছেছে।

“চিড়িয়াখানা চট্টগ্রামের শিশুদের বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একে আরও আকর্ষণীয় করতে ক্যাঙ্গারু আনার পরিকল্পনা নিয়েছি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন।” রুহুল আমিন বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অফিশিয়াল পত্রের মাধ্যমে আমাদেরকে দুই জোড়া ক্যাঙ্গারুর মূল্য জানাতে বলেছি।

“প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যাচাই করে কার্যাদেশ দেব। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্যাঙ্গারু সংগ্রহের কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।”

১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় ছয় একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ চিড়িয়াখানায় বর্তমানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বাঘ, সিংহ, হরিণ, কুমির, অজগর, ভাল্লুকসহ প্রায় ৪৭ প্রজাতির প্রাণী।

দীর্ঘদিন বাঘ ও সিংহ ছাড়া থাকা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকা খরচ করে আনা হয় এক জোড়া বাঘ। এর তার আগে ৫ সেপ্টেম্বর ‘অদল-বদল’ প্রক্রিয়ায় রংপুর চিড়িয়াখানায় একটি সিংহী দিয়ে একটি সিংহ আনা হয়।

এছাড়াও গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয় চারটি ময়ূরী। সবশেষ গত ৬ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয় ছয়টি জেব্রা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেন আটকাতে চালককে ‘অপহরণ’



রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনের চালক বা লোকে মাস্টারকে তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নগরীর ষোলশহরের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে একটি শাটল ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এর আগেই ওই ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে বর্তমানে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।”

রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো শাটল ট্রেন চলাচল করেনি বলে জানান শাহাবুদ্দিন।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে এক সংগঠনের নেতারা ট্রেনচালককে ধরে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অতীতেও নানা সময় দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শাটল ট্রেনের চালককে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। দিনশেষে তাদের ফিরে পাওয়া যায়। মূলত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতেই এটা করা হয়। এবারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, “শাটল ট্রেনের লোকো মাস্টারকে অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। আমরা বিষয়পি রেলওয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” তবে কে বা কারা অবরোধ করেছে, তা জানেন না বলে জানান তিনি।

আট দফা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আট দফা দাবিতে একটি সংগঠন থেকে বেনামি একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা যে দফাগুলো দিয়েছে, তার কোনোটি পূরণ করার মতো নয়, শুধু মাত্র শাটল ট্রেনের বগিবৃদ্ধির দফাটি ছাড়া। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা অতি শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য বরাবর আট দফা দাবিতে একটি চিঠি দেয় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবৃন্দ’।

আট দফা দাবির মধ্যে আছে -প্রতিটি বিভাগের সেশন জট নিরশন ও শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রশাসনিক পদে থাকা জামায়াত-বিএনপিপন্থিদের অপসারণ, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগকৃত প্রতিক্রিয়াশীলদের নিয়োগ বাতিল, শিক্ষক বাসে বোমা হামলাকারী শিবির ক্যাডারদের চাকরিচ্যুত করা, খালেদা জিয়ার নামে করা হলের নাম পরিবর্তন, বঙ্গবন্ধুর নামে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের হাতে নিহত ছাত্রনেতাদের হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

নতুন যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনে কোনো ছাত্র সংগঠনের নেতারা সরাসরি যুক্ত না থাকলেও ছাত্রলীগের একাংশ নেপথ্যে থেকে তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশখালীর চাম্বল ব্রিজ




বাঁশখালীর প্রধান সড়কের একমাত্র চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোন সময় বাঁশখালীর প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশংকা করছে সাধারণ জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কে বিগত দিনে ৫টি বেইলী ব্রীজ থাকলেও বর্তমান সরকার মতায় আসার পর প্রধান সড়ক সংস্কারের পর পর বৈলছড়ি ব্রীজ, টাইম বাজার ব্রীজ, নাপোড়া ব্রীজ ও প্রেম বাজার ব্রীজটি নতুন করে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শেষ করলেও চাম্বল বাজার ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে এই বেইলী ব্রীজটি বিগত দিনে বেশ কয়েকবার পাটাতন নষ্ট হয়ে এবং গাড়ী উল্টে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তারপরেও এই ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গাড়ী দিয়ে যাতায়াত ছাড়াও সাধারণ ভাবে চলাচলেও নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীও চরম ভাবে বেকায়দায় পড়ে এই ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করতে। চাম্বলের বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলী ব্রীজটি পারাপারে যানবাহনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও ঝটলা হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রীজটি সংস্কার করা না হলে যেকোন সময় প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙে পড়ছে। অপরদিকে ৮–১০টি দোকান প্রধান সড়কের উপর প্রতিদিন বসায় যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে।

বিশেষ করে পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল, সাধনপুর, বৈলছড়ি বাজার, উপজেলা সদর জলদী ও মিয়ার বাজার, শীলকূপ টাইম বাজার ও চাম্বল বাজার। পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল ও চাম্বল বাজারের অসহনীয় যানজট দীর্ঘদিন যাবৎ এই যানজট নিরসনে কার্যকর সভা সমাবেশ ও মিটিং করলেও প্রতিকার পাইনি জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের চাম্বল বাজারের বেইলী ব্রীজ সংস্কার ও প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন এই প্রত্যাশা জনগণের। এদিকে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বর্তমান যে গর্তগুলো হয়েছে এবং দুই পাশের মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে । কাজ ও শুরু হবে। বাশঁখালী বাসী যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা পায় সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি বলে তিনি আজাদীকে জানান ।


০১-০৪-২০১৮

বাকলিয়া হবে দৃষ্টি নন্দন উপশহর : ছালাম



চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম বলেছেন,চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়–দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়ে নিয়েছেন। সেই ভাবে তিনি বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন কাজের তদারকি করছেন। চট্টগ্রাম হবে সিঙ্গাপুরের ন্যায় একটি নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন শহর। এ শহরের উন্নয়ন সারাবাংলার মানুষের নজর কেড়ে নেবে। চট্টগ্রামবাসী আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে সেভাবে সহযোগিতা আগামী দিনে পেলে এ শহর উন্নয়নশীল দেশের শহরে পরিণত হবে। বাকলিয়া এক্সেস রোড ও মেরিন ড্রাইভের কাজ শেষ হলে বাকলিয়া হবে চট্টগ্রামের জন্য একটি উন্নত উপ–শহর। তিনি বাকলিয়াকে উপ–শহরে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে বাকলিয়াবাসীর বেশি বেশি সহগযোগিতা কামনা করেন। গতকাল শনিবার বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিদ্যালয়ের জন্য যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন। সকাল ১১টায় স্কুল অডিটোরিয়ামে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল আলম, সেচ্ছা সেবক লীগ নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক কেবিএম শাহজাহান, কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম, চেম্বার পরিচালক ছৈয়দ ছগীর আহাম্মদ, মুহাম্মদ সেয়দ ও ব্যবসায়ী নেতা শামসুল আলম, আবদুল আজীজ, হাজী মো. ইয়াকুব, নজরুল ইসলাম। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন বাবুল, নুরুল আফছার, আমিনুল ইসলাম, রদরুন্নেছা বেগম প্রমুখ।

০১-০৪-২০১৮


‘ডিম পাহাড়ের’ সৌন্দর্য হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের

এনামুল হক কাশেমী, বান্দরবান : সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ৩৩ কি.মি. দীর্ঘ থানচি–আলীকদম সড়কের মাঝপথে থাকা ‘ডিমপাহাড়’ এলাকাটি হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের। এছাড়া দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের উপর নির্মিত এই সড়কপথটিও (থানচি–আলীকদম) পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় দীর্ঘদিন ধরে। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এই আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজনেতারা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই সড়কপথের পাশে বসবাসকারী ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ছবি তুলেছেন :  সজিবুল ইসলাম নয়ন

আলীকদম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম এবং থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেছে এ সড়কের মাঝপথে অবস্থিত ‘ডিমপাহাড়’ এলাকাটি।

তাছাড়াও পুরো ৩৩ কি.মি. সড়কপথ জুড়েই রয়েছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রয়েছে রকমারি ফুল–ফলে আচ্ছাদিত সবুজ গাছ–গাছালিও। পিচঢালা আঁকা–বাঁকা এই পথে ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করে পাহাড়ি দৃশ্যগুলো। পুরো সড়কপথের সাথে যোগ হয়েছে সবুজপাহাড় আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছোট–ছোট পাড়া/গ্রামগুলোর বৈচিত্র্যময় মানুষদের জীবনধারা ও পথচলা। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও বিপদমুক্ত নয় এমন এলাকাসমূহে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা চৌকি কিংবা নিরাপত্তা ক্যাম্প বসানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পর্যটকরা।

কুমিল্লা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক আবদুল সালাম, ফরিদ আহমদ এবং কলিমুল্লাহ জানান, তারা গত সপ্তাহে আলীকদম হয়ে থানচি উপজেলা সদরের সড়কপথ ভ্রমণ করেছেন এবং সেখানে তারা ‘ডিমপাহাড়ে’ কিছু সময় কাটিয়ে বেশ আনন্দ উপভোগ করেছেন। তারা বলছেন, কেবল ডিমপাহাড় এলাকাটিই নয়, ৩৩ কি.মি. দীর্ঘ থানচি–আলীকদম উপজেলা সড়কের প্রতি ১০ কি.মি. পর পর পথিক বা পর্যটকদের জন্যে একটি করে অস্থায়ী বিশ্রামাগারসহ নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ করা আবশ্যক। এসব নির্মিত হলে ভ্রমণ পিপাসুরা এ সড়ক ব্যবহারে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে পৃথকস্থানে স্থাপিত নিরাপত্তা চৌকিসমূহে যাতায়াতকারী পর্যটকসহ যাত্রীবহনকারী যানবাহনগুলোর চালক এবং যাত্রীদের জরুরি মোবাইল নম্বরসহ ডাটা লিপিবদ্ধ করা হয়। যাতে করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো কিংবা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া গাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে।

যেভাবে যাবেন ডিম পাহাড়ে :

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া বাসস্টেশন থেকে আলীকদমমুখী বাস কিংবা ছোট যানবাহনে আলীকদম উপজেলা সদরে এবং সেখান থেকে হালকা যানবাহনে সহজেই যাওয়া যায় ‘ডিমপাহাড় এলাকা’ তথা পুরো আলীকদম–থানচি সড়কে। আবার বান্দরবান জেলা সদর হয়ে থানচি উপজেলা সদর থেকে যে কোনো হালকা যানবাহন চেপেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রমণ করা যায় ওই সড়কপথে। তবে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা হিসেবে পাহাড়ে যানবাহন চালনা বিষয়ে দক্ষ এমন চালককেই সাথে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়কের চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে আলীকদম–থানচি সড়কপথে যাওয়ার সময় লামা উপজেলার টপহিল মিরিন্‌জা পর্যটন কেন্দ্র এবং আলীকদম উপজেলা সদরের কাছে পর্যটন কেন্দ্র আলী চূড়ংগ দর্শনের সুযোগ রয়েছে। বান্দরবান জেলা সদর হয়ে থানচি–আলীকদম সড়কপথ ভ্রমণে গেলে দর্শনীয় স্থান প্রান্তিকলেক, নীলাচল, রাজবাড়ি, শৈলপ্রভাত, চিম্বুক পাহাড়, জিয়া পুকুর, সুভ্রনীলা, নিলগিরি এবং জীবননগর অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যটকদের ভ্রমণ মৌসুম না হওয়া সত্তেও প্রতিদিনই বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ সরকারি বন্ধের দিনে বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটছে বান্দরবানে। পর্যটনের ভরা মৌসুমে তো তিল ধারণের জায়গাও থাকে না এখানে।