ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশখালীর চাম্বল ব্রিজ




বাঁশখালীর প্রধান সড়কের একমাত্র চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোন সময় বাঁশখালীর প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আশংকা করছে সাধারণ জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কে বিগত দিনে ৫টি বেইলী ব্রীজ থাকলেও বর্তমান সরকার মতায় আসার পর প্রধান সড়ক সংস্কারের পর পর বৈলছড়ি ব্রীজ, টাইম বাজার ব্রীজ, নাপোড়া ব্রীজ ও প্রেম বাজার ব্রীজটি নতুন করে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শেষ করলেও চাম্বল বাজার ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে এই বেইলী ব্রীজটি বিগত দিনে বেশ কয়েকবার পাটাতন নষ্ট হয়ে এবং গাড়ী উল্টে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তারপরেও এই ব্রীজটি সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে চাম্বল বাজার বেইলী ব্রীজটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গাড়ী দিয়ে যাতায়াত ছাড়াও সাধারণ ভাবে চলাচলেও নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজগামী ছাত্র–ছাত্রীও চরম ভাবে বেকায়দায় পড়ে এই ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করতে। চাম্বলের বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই বেইলী ব্রীজটি পারাপারে যানবাহনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও ঝটলা হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে এই ব্রীজটি সংস্কার করা না হলে যেকোন সময় প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের অধিকাংশ স্থানে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙে পড়ছে। অপরদিকে ৮–১০টি দোকান প্রধান সড়কের উপর প্রতিদিন বসায় যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে।

বিশেষ করে পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল, সাধনপুর, বৈলছড়ি বাজার, উপজেলা সদর জলদী ও মিয়ার বাজার, শীলকূপ টাইম বাজার ও চাম্বল বাজার। পুকুরিয়া চৌমুহনী, গুনাগরী খাসমহল ও চাম্বল বাজারের অসহনীয় যানজট দীর্ঘদিন যাবৎ এই যানজট নিরসনে কার্যকর সভা সমাবেশ ও মিটিং করলেও প্রতিকার পাইনি জনগণ। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের চাম্বল বাজারের বেইলী ব্রীজ সংস্কার ও প্রধান সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন এই প্রত্যাশা জনগণের। এদিকে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বর্তমান যে গর্তগুলো হয়েছে এবং দুই পাশের মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে । কাজ ও শুরু হবে। বাশঁখালী বাসী যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা পায় সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি বলে তিনি আজাদীকে জানান ।


০১-০৪-২০১৮

নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম মেয়র বিএনপির সিরাজ



ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম সিরাজ উদ দৌলা। তিনি ৯ হাজার ৫শ’ ৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৫শ’ ৯৩ ভোট।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ১শ’ ৫৭টি। ২নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আমান উল্লাহ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ২শ’ ১১টি। ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. হারুন। তার প্রাপ্ত ভোট ৫শ’ ৪৩টি। ৪নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো.মহিন উদ্দিন। তার প্রাপ্ত ভোট ৭শ ২৬টি। ৫নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এসএম আবুল মনসুর। তার প্রাপ্ত ভোট ৬শ’ ৫০টি। ৬নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মো. এয়াকুব। তার প্রাপ্ত ভোট ৯শ’ ৯৭টি। ৭নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. ইছমাইল। তার প্রাপ্ত ভোট ৭শ’ ৭২টি। ৮নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৭০টি।

৯নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এম ছোলেমান। তার প্রাপ্ত ভোট ৮শ ৮টি। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ছলিমা আকতার। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৪৬টি। ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন রেজিয়া বেগম। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৫শ ৫টি। ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা আকতার। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৯শ ৯২টি।

নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী এস এম সিরাজ উদ দৌলা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোধিকারহীনতাই এই ভোট বিপ্লবের কারণ। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে তাদের মনোবাসনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

আ.লীগ প্রার্থী মো. মুজিবুল হক চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমার প্রার্থীতা বাতিল হলে আমার দলের লোকজনই এর বেশি নেতিবাচক প্রচার করেছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পেলেও অনেকেই তা মূল্যায়ন করেনি। আবার অপর একটি পক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে দলীয় কর্মীদের ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। তবুও যেসব ভোটার ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ, যুবককে জরিমানা : এদিকে গতকাল সকাল থেকেই কোনো রূপ বিশৃঙ্খলা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পৌরবাসী প্রথমবারের মত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে র‌্যাব–পুলিশ–বিজিবি’র কড়া সতর্কতা ছিল সবখানে। তবে একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে মো. ইকবাল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদানের আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সরেজমিনে গতকাল সকাল সোয়া ৯টায় নাজিরহাট আহমদীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। প্রখর রোদের তাপ উপেক্ষা করে দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। এখানে চারটি ভোট কেন্দ্র। ৪ জন প্রিসাইডং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব ফরহাদাবাদ অংশের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার বশীর আহমেদ সরকার জানান, এই কেন্দ্রে ১৬৫১ ভোটের মধ্যে ৪০০ ভোট সংগ্রহ হয়েছে। এই কেন্দ্রের ৯০ বছর বয়স্ক ভোটার নজির আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আর পৌরসভার দ্বন্দ্বে ২০০৩ সালের পর আর ভোট দিতে পারিনি এখানে। তাই যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তাদের গায়ে ‘জং ধরেছে’!সরকার একটি নির্বাচন দিয়ে সুযোগ দিলো ভোট দেওয়ার। তাই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে এলাম। অপর অংশে দায়িত্ব পালন করছেন ফেরদৌস হাসান। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে ১৪২৭ ভোটের মধ্যে ৪শ’ ভোট সংগ্রহ চলছে।

সকাল ১০টা ১৬ মিনিটের সময় সুয়াবিল চুরখারহাট মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এই কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ডা. সুমেন চাকমা জানান, ১৭৬৮ ভোটের মধ্যে ৫০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রে কথা হয় আ.লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করছে। এখানে ভোট দিয়ে ছেলের কাধে ভর করে ফিরছিলেন আশি বছর বয়ষ্ক রবিজা খাতুন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে সুয়াবিলে উপ–নির্বাচনের পর আমরা আর ভোট দিতে পারিনি। তাই প্রথম পৌরসভায় ভোট দিতে এলাম।

বেলা ১১টায় পূর্ব ফরহাদাবাদ নূর আহমদ ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এখানে পুরুষ–মহিলা দুইটি কেন্দ্রে প্রতি বুথে ১০–১৫ জন করে ভোটার আছেন। পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শফিউল আলম জানান, এই কেন্দ্রে ১৯৯২ ভোটের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৩৫০ ভোট। মহিলা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ১৯১২ ভোটের মধ্যে ৬০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রের কাউন্সিলর প্রার্থী মঈনুল জানান, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। সব প্রার্থীরা লোকেরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় বাবু নগর উচ্চ বিদ্যালয় পুরুষ কেন্দ্রে দেখা যায়, অল্প কয়েকজন পুরুষ ভোটার ভোট দেওয়ার অপে ায় আছেন। প্রিসাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৭৫০ ভোটের মধ্যে সাড়ে ৭০০ ভোট সংগ্রহ চলছে। এই কেন্দ্রের ভোটার সাবেক পিজিআর প্রধান লে. কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরী বলেন, অনেকদিন পর নিজের এলাকায় প্রথম ভোট দিলাম। তাও প্রথম পৌরসভায়। ভালোই লাগছে।

দুপুর ১টায় মধ্য দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। দ্রুত সেখানে গেলে প্রত্য দর্শীরা জানান, আ.লীগের মূল ধারার এক নেতা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে অপর পক্ষের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ও বিজিবি লাঠি পেটা করে তাদের নিবৃত্ত করে। এখানে নারী কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিন ও পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের প্রায় ৫০% ভোট সংগ্রহ হয়েছে।

দুপুর ২টায় নাজিরহাট আহমদীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ মনসুর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মো. ইকবাল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকের হোসেন মাহমুদ বলেন, কোনো প্রকার গণ্ডগোল ছাড়া নির্বাচন শেষ হয়েছে।

সূত্র ঃ দৈনিক আজাদী